ওঙ্কার ডেস্ক: শান্তিনিকেতনের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সোনাঝুরি হাটের অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার রুখতে সক্রিয় হল বনদফতর। বনাঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখা এবং সংরক্ষিত এলাকার উপর অতিরিক্ত চাপ কমানোর লক্ষ্যেই শুরু হয়েছে বিশেষ অভিযান। হাটকে কেন্দ্র করে বেড়ে ওঠা দোকানপাট ও অস্থায়ী কাঠামোর সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় এবার নজরদারি আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বনদফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সোনাঝুরি হাটে পর্যটকদের আনাগোনা অনেক বেড়েছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে দোকানের সংখ্যা এবং ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড। অভিযোগ উঠেছে, নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে গিয়েও বেশ কিছু দোকান বসছে। এর ফলে বনভূমির উপর চাপ বাড়ছে এবং এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বনদফতরের কর্মীরা এলাকায় নিয়মিত পরিদর্শন শুরু করেছেন। বনাঞ্চলের নির্ধারিত সীমার মধ্যে কোনও নতুন অস্থায়ী দোকান, কাঠামো বা দখল তৈরি হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিয়ম ভেঙে কোনও নির্মাণ বা ব্যবসায়িক কার্যকলাপ নজরে এলে তা সরিয়ে দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতায় যৌথ অভিযান চালানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। বনদফতরের আধিকারিকদের বক্তব্য, সোনাঝুরি শুধু একটি বাজার বা পর্যটনকেন্দ্র নয়, এটি একটি সংবেদনশীল প্রাকৃতিক এলাকা। এখানকার গাছপালা, পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যটন ও স্থানীয় মানুষের জীবিকার বিষয়টি মাথায় রেখেই হাট পরিচালনা করা হবে, তবে পরিবেশের ক্ষতি করে কোনও ধরনের বিস্তার মেনে নেওয়া হবে না।
সোনাঝুরি হাট দীর্ঘদিন ধরে শান্তিনিকেতনের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় শিল্পী, কারুশিল্পী এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য এই হাট একটি গুরুত্বপূর্ণ জীবিকার উৎস। সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে বসা এই হাটে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের ভিড় দেখা যায়। বাউল গান, হস্তশিল্প, স্থানীয় খাবার এবং গ্রামীণ সংস্কৃতির জন্যও এই হাট বিশেষ জনপ্রিয়। তবে জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাটের পরিধি নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। অতিরিক্ত ভিড়, যানবাহনের চাপ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যা এবং বনাঞ্চলের উপর বাড়তি চাপ পরিবেশবিদদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই কারণেই এবার বনদফতর কড়া অবস্থান নিয়েছে।