ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে অস্থিরতার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের ওপর। এই পরিস্থিতিতে ওই অঞ্চলে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার তা বিস্তারিত ভাবে সংসদে জানাল কেন্দ্র সরকার। বিদেশ মন্ত্রক, নৌপরিবহণ মন্ত্রক, ভারতীয় নৌবাহিনী এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসগুলির মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা হয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, হরমুজ প্রণালী ও তার আশপাশে যেসব জাহাজে ভারতীয় নাবিকরা কর্মরত রয়েছেন, সেগুলির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট শিপিং সংস্থাগুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা হয়েছে। কোনও জাহাজ বিপদের মুখে পড়লে বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যা তৈরি হলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য একটি বিশেষ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে জাহাজগুলির অবস্থান, যাত্রাপথ এবং সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়েও নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। মন্ত্রক জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে ভারতীয় দূতাবাসগুলিকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দেশের প্রশাসন ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে। এছাড়া নাবিকদের পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে, যাতে তাঁরা পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিক তথ্য পান এবং অযথা আতঙ্কিত না হন।
ভারতীয় নৌবাহিনীকেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। আরব সাগর এবং ওমান উপসাগরে মোতায়েন যুদ্ধজাহাজগুলিকে পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপত্তা প্রদান, উদ্ধার অভিযান পরিচালনা এবং জরুরি মানবিক সহায়তা দেওয়ার জন্য নৌবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলির নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রক এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার মধ্যে সমন্বয় রেখে প্রতিটি পরিস্থিতির ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। যদি পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়, তবে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা এবং ভারতীয় জাহাজগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পদক্ষেপও নেওয়া হবে। আপাতত পশ্চিম এশিয়ার সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর কেন্দ্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।