ওঙ্কার ডেস্ক: বাঁকুড়ার খাতড়ায় প্রাক্তন মন্ত্রী তথা প্রাক্তন বিধায়ক জ্যোৎস্না মাণ্ডির দলীয় কার্যালয়ে প্রশাসনের তল্লাশিকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ওই কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ লাঠির বান্ডিল, ত্রিপল এবং একটি তরোয়াল উদ্ধার হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।
প্রশাসন সূত্রের খবর, সরকারি সম্পত্তি ও ত্রাণসামগ্রী সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতেই ওই কার্যালয়ে তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানের সময় কার্যালয়ের বিভিন্ন অংশ খতিয়ে দেখে আধিকারিকরা বিপুল পরিমাণ ত্রিপল, একাধিক লাঠির বান্ডিল এবং একটি তরোয়াল উদ্ধার করেন। পরে উদ্ধার হওয়া সমস্ত সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করে তালিকা প্রস্তুত করা হয়। জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ত্রিপলগুলির মধ্যে সরকারি ত্রাণসামগ্রী রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে তরোয়ালটি কী উদ্দেশ্যে কার্যালয়ে রাখা হয়েছিল এবং এত সংখ্যক লাঠি কেন সেখানে মজুত ছিল, তা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, উদ্ধার হওয়া প্রতিটি সামগ্রীর উৎস, সেগুলি কীভাবে সেখানে এল এবং কার নির্দেশে সংরক্ষণ করা হচ্ছিল, সেই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।
তদন্তকারী আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সম্ভাবনাকেই উড়িয়ে দিতে চাইছেন না আধিকারিকরা। ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল তরজা। বিরোধীদের দাবি, সরকারি সম্পত্তি বা ত্রাণসামগ্রী যদি কোনও রাজনৈতিক কার্যালয়ে মজুত রাখা হয়ে থাকে, তবে তার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত জ্যোৎস্না মাণ্ডি বা তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাজ্যের একাধিক প্রাক্তন জনপ্রতিনিধির দলীয় কার্যালয়ে প্রশাসনের তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে সরকারি সামগ্রী, ত্রাণসামগ্রী এবং অন্যান্য বস্তু উদ্ধারের দাবি ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের আবহ তৈরি হয়েছে। খাতড়ার এই ঘটনাও সেই বিতর্কে আরও নতুন মাত্রা যোগ করেছে।