নিজস্ব প্রতিনিধি,নদিয়া : নদিয়ার ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে মিলল বিপুল পরিমানে পরিত্যক্ত ওষুধ। শনিবার ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে উদয়পুর এলাকায় সারি সারি ঔষধ পড়ে থাকতে দেখে চাঞ্চল্য ছড়ায়। পথ চলতি সাধারণ মানুষের নজরে বিষয়টি আসতেই এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়। রাস্তার ধারে এই বিপুল পরিমাণ ওষুধ এল কীভাবে ? কে বা কারা সেগুলি ফেলে রেখে গেছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যা নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওষুধগুলো সম্ভবত মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়া। তবে তার উৎস কোথায় বা কেন সেগুলি ফেলে দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও কোনো স্পষ্ট তথ্য মেলেনি।
স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে এতো পরিমাণে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ সাধারণত কোন ওষুধের দোকান, বা ওষুধের ফ্যাক্টরি বা হাঁসপাতালের বজ্র হতে পারে। তবে সেই বজ্রও যেখানে সেখানে ফেলার নিয়ম নেই। এই কাজ সম্পূর্ণ বেআইনি। যেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ এই ওষুধগুলি প্রায় ২৪ দিনের মত এখানে পড়ে রয়েছে, সেখানে প্রশাসনের কাছে কোন খবর নেই ? যদি থাকেও তবে প্রশাসন কেন এতো উদাসীন।
যেখানে রাজ্যকে পরিষ্কার এবং স্বচ্ছ করার লক্ষে কিছুদিন আগেই স্বচ্ছতা অ্যাপের উদব্ধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী, তার পরেও রাজ্যের স্বচ্ছতায় আপোস কেন প্রশাসনের। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকাবাসীর মধ্যে কৌতূহল ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে ফুলিয়া পুলিশ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
২০১৫ সালে এরকমই একটি ঘটনা নজরে এসেছিল। কাঁকসা ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিপুল পরিমান ওষুধ একটি কুয়োয় ফেলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ ছিল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে প্রায়শয়ই ওষুধ মেলে না। চিকিৎসকদের লিখে দেওয়া ওষুধ কিনতে হয় বাইরের দোকান থেকে। অথচ, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পড়ে থেকে সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়া বহু ওষুধ পরিত্যক্ত কুয়োয় ফেলে দেওয়া হয়। জানাজানি হওয়ার পরে ওষুধগুলি পুড়িয়ে মাটি চাপা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় শোরগোল ওঠে এলাকায়। ব্লক স্বাস্থ্য দফতরের তরফে জানানো হয়েছিল, সংশ্লিষ্ট এক কর্মীকে শো-কজ করে তদন্ত শুরু হয়েছে। কিন্তু তদন্তের বিষয়ে পরে আর কিছু জানা যায়নি।
স্বাস্থ্যকেন্দ্র সূত্রে জানা গিয়েছিল, তাদের চাহিদামতো ওষুধ স্বাস্থ্য দফতর থেকে পাঠানো হয়। কোনও ওষুধ পড়ে থাকলে তা সময়সীমা পেরোনোর আগে সংশ্লিষ্ট দফতরকে জানাতে হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে কাঁকসা স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে তা জানানো হয়নি বলে ব্লক স্বাস্থ্য দফতর থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়। পরিত্যক্ত কুয়োয় ওষুধ ফেলে দেওয়ার ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরে সেগুলি পুড়িয়ে মাটি চাপা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।