ওঙ্কার ডেস্ক: দিন যাচ্ছে আর নিঃসঙ্গ হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। ভোট-র ফলাফলের পর ২৮ দিনের মাথায় ভেঙে খান খান হয়ে গেল ২৮ বছরের একটি দল। এবারকি তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরে দীর্ঘকালের সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়! শনিবার দিল্লিতে বিজেপির অন্যতম শীর্ষনেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে গিয়ে তাঁর বৈঠকের পর তুঙ্গে জল্পনা। শোনা যাচ্ছে, এদিন সাংসদ শতাব্দী রায় তাঁকে নিয়ে ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে যান। সেখানে বেশ কিছুক্ষণ আলোচনা করেন তাঁরা। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ বিদ্রোহী তৃণমূল শিবিরের সাংসদ সংখ্যা হতে চলেছে ২০। সূত্রের দাবি, শনিবার দিল্লিতে বিজেপির শীর্ষ নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে যান সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে সাংসদ শতাব্দী রায়কেও দেখা গিয়েছে বলে খবর। সেখানে কিছু সময় ধরে আলোচনা হয় বলে জানা যাচ্ছে।
এই বৈঠকের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা ছড়িয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই সাক্ষাৎকে ঘিরে বিভিন্ন ব্যাখ্যা সামনে আসতে শুরু করেছে। তবে বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও পক্ষই প্রকাশ্যে মুখ খোলেনি। এদিকে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে নানা আলোচনা চললেও, কোনও নেতা বা সাংসদের অবস্থান পরিবর্তন কিংবা দলত্যাগের বিষয়ে সরকারি বা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে এখনও জল্পনার পর্যায়েই রয়েছে রাজনৈতিক মহল। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জাতীয় ও রাজ্য রাজনীতিতে বিভিন্ন দলের নেতাদের মধ্যে বৈঠক বা যোগাযোগ নতুন কিছু নয়। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এমন বৈঠক স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দেয়। প্রসঙ্গত, এই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এর আগেও সারদা কেলেঙ্কারিতে নাম জড়িয়েছিল। তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর অনেকেই ঋতব্রতর নেতৃত্বে বিদ্রোহী দলে যোগদান করেন। কলকাতা উত্তর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম মুখ। দলের সংসদীয় কৌশল নির্ধারণ থেকে শুরু করে জাতীয় স্তরে বিরোধী রাজনীতির বিভিন্ন ইস্যুতে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সেই কারণে তাঁর মতো একজন প্রবীণ নেতার নাম বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়া নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এর আগে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের কয়েকজনের সই রয়েছে চিঠির অংশে। যেখানে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায় থেকে শুরু করে মালা রায়, সায়নী ঘোষ, দীপক অধিকারী ওরফে দেব— মোট ১৯ জনের স্বাক্ষর দেখা যাচ্ছে। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, এই চিঠিই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে জমা দিয়েছেন তাঁরা, যেখানে আলাদা ব্লক করে তাঁদের এনডিএ শিবিরে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। সূত্রের দাবি, আগামী সোমবার তাঁরা স্পিকারের সঙ্গে দেখা করতে পারেন। এই চিঠি সামনে আসার পরে বিদ্রোহী শিবিরের সাংসদরা স্বাভাবিক ভাবেই সুর আরও চড়িয়েছেন কালীঘাটের তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এবং দাবি করেছেন, এই চিঠিই স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। আবার এখনও কালীঘাটের দিকে ঝুঁকে থাকা মহুয়া মৈত্র, শত্রঘ্ন সিনহা ও কীর্তি আজ়াদ নিশানা করেছেন বিদ্রোহীদের।