ওঙ্কার ডেস্ক: রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে ডিএ বা মহার্ঘ ভাতা নিয়ে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন বিজেপি সরকারের দ্বিতীয় মন্ত্রিসভা বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে, আর সেই বৈঠককে কেন্দ্র করেই ডিএ সংক্রান্ত বড় সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রের সমহারে ডিএ, বকেয়া মহার্ঘ ভাতা এবং নতুন বেতন কমিশনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসা রাজ্যের সরকারি কর্মচারীরা এখন নতুন সরকারের দিকে তাকিয়ে।
নির্বাচনী প্রচারে বিজেপি স্পষ্টভাবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে ক্ষমতায় এলে ৪৫ দিনের মধ্যে সরকারি কর্মীদের জন্য কেন্দ্রীয় হারে ডিএ চালু করা হবে এবং সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সেই প্রতিশ্রুতির প্রেক্ষিতেই সোমবারের মন্ত্রিসভা বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বর্তমানে রাজ্যের সরকারি কর্মীরা ১৮ শতাংশ হারে ডিএ পেলেও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের তুলনায় তাঁদের প্রাপ্য অনেকটাই কম। ফলে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও আর্থিক বঞ্চনার অবসান ঘটবে কি না, তা নিয়ে প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলির তরফে নতুন সরকারের কাছে ডিএ অন্তত ১২ শতাংশ বাড়িয়ে ৩০ শতাংশে উন্নীত করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বকেয়া ডিএ পরিশোধের রূপরেখা দ্রুত ঘোষণা করারও আবেদন করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত মামলায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে, যেখানে ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া ডিএ-র একটি বড় অংশ পরিশোধের কথা বলা হয়েছে। ফলে নতুন সরকারের সামনে একদিকে যেমন নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষার চাপ, অন্যদিকে তেমনই রয়েছে বিপুল আর্থিক বোঝা সামলানোর চ্যালেঞ্জ।
নবান্ন সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে যে সোমবারের বৈঠকে সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হতে পারে। যদি সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়, তবে রাজ্যের লক্ষাধিক সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের আর্থিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসবে। তবে রাজ্যের আর্থিক অবস্থা, কোষাগারের সক্ষমতা এবং আদালতের নির্দেশ কার্যকর করার বিষয়টি বিচার করেই সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।