নিজস্ব প্রতিনিধি,বর্ধমান :
সহায়ক মূল্যের দাবিতে কার্জন গেটে আলু ফেলে বিক্ষোভে বর্ধমানের চাষিরা। সোনালি ফসলেই এখন ঘনিয়ে আসছে অন্ধকারের ছায়া। একদিকে উৎপাদন খরচের আকাশছোঁয়া বৃদ্ধি, অন্যদিকে সরকারের ঘোষিত সহায়ক মূল্যের সাথে বাস্তবের বিস্তর ফারাক— এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলার আলু চাষিরা এখন দিশেহারা।
সরকারের ঘোষিত প্রতি কেজি ৯.৫০ টাকা দরে আলু বিক্রি করে, তাদের বিঘা প্রতি প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে বলে দাবি কৃষকদের। এই বঞ্চনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বর্ধমান শহরের প্রাণকেন্দ্র কার্জন গেটের সামনে রাস্তায় আলু ঢেলে ব্যাপক বিক্ষোভে শামিল হলেন কয়েকশ চাষি।বিক্ষোভরত কৃষকদের দাবি, বর্তমানে এক বিঘা জমিতে আলু চাষ করতে খরচ হচ্ছে প্রায় ৩৬,০০০ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে সার, বীজ এবং কীটনাশকের অত্যধিক দাম। অথচ সরকার যে ৯.৫০ টাকা কেজি দরে আলু কেনার কথা বলেছে, তাতে চাষের খরচটুকুও উঠছে না।
কৃষকদের অভিযোগ আলুর বস্তার দাম একলাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫-১৭ টাকা। মাঠ থেকে আলু তুলে হিমঘর পর্যন্ত পৌঁছানোর পরিবহন খরচ এবং হিমঘরের বর্ধিত ভাড়া চাষিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। চাষের শুরু থেকেই সার ও বীজের কালোবাজারি চলায় উৎপাদন খরচ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। তারা বলছেন, “সরকার যে দাম দিচ্ছে তাতে আমাদের ঘর থেকে টাকা দিতে হবে। বিঘা প্রতি কয়েক হাজার টাকা লোকসান হলে আমরা সংসার চালাব কী করে? হয় সরকার ১২ টাকা কেজি দরে আলু কিনুক, নয়তো আমাদের আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হবে।” — ক্ষোভ উগড়ে দিলেন বিক্ষোভরত এক কৃষক।
চাষিদের স্পষ্ট দাবি, বর্তমান বাজারদর এবং খরচের কথা মাথায় রেখে সরকারকে অন্তত ১২ টাকা কেজি দরে আলু কিনতে হবে। পাশাপাশি সারের কালোবাজারি বন্ধ এবং বস্তার দাম কমানোর দাবিও জানানো হয়েছে।
গত কয়েক বছরে প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং বীমার টাকা ঠিকমতো না পাওয়ার ফলে বহু কৃষক ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। এমনকি পূর্ব বর্ধমান জেলাতেও একাধিক কৃষক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। চাষিদের আশঙ্কা, অবিলম্বে সঠিক দাম না পেলে আবারও সেই অন্ধকার দিন ফিরে আসতে পারে।
কৃষকরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, অবিলম্বে দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন তারা এমনকি প্রয়োজন পড়লে নবান্নে ও যাবেন ।
