পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে স্কুলের পাঠ্যপুস্তকে একগুচ্ছ শব্দ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরিকল্পনা করে শিশু মনে বিভাজন ঘটানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি। এমতাবস্থায় স্কুল-পাঠ্য শব্দভান্ডার ঝাড়পোঁছ করার কাজ শুরু করল রাজ্যের শিক্ষা দফতর। প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যক্রমের পরিমার্জনে সম্প্রতি তিন দিনের আবাসিক শিবির করেছে পাঠ্যক্রম কমিটি। যার উদ্দেশ্য হবে পাঠ্যবইয়ের শব্দভান্ডার ‘শুদ্ধকরণ’। পাশাপাশি কিছু নতুন অধ্যায় সংযোজন-বিয়োজনের ভাবনা-চিন্তাও করছে কমিটি।
রাজ্যের শাসক দলের অভিযোগ, তৃণমূল জমানায় বাংলা ভাষায় মুদ্রিত পাঠ্যবইগুলিতে কিছু বিদেশি শব্দ জোর করে ঢোকানো হয়েছিল। নেপথ্যে রাজনৈতিক অভিসন্ধি ছিল বলেও দাবি করা হয়। এমতাবস্থায় গত ৪ অগাস্ট পাঠ্যক্রম কমিটির প্রথম বৈঠকে শব্দ বদলের প্রস্তাব দেন নতুন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। শিক্ষা দফতর সূত্রে খবর, ‘ফজর’, ‘আসমান’, ‘গোসল’, বা ‘দোস্ত’-এর মতো বেশ কিছু ‘অপ্রচলিত’ শব্দ পাঠ্যবইতে ঢোকানো হয়েছিল। পাঠ্যক্রম কমিটিতে থাকা একাধিক বিশেষজ্ঞের বক্তব্য, একে শব্দবদল না বলে জোর করে বিদেশি শব্দ ঢোকানো হিসেবেই দেখা উচিত।
শুধু শব্দ না। বইয়ের কিছু উদাহরণ নিয়েও দ্বিমত তৈরি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে গণিত বইয়ে অনুপাতের অঙ্ক শেখানোর জন্য গোয়ালা দুধে জল মেশাচ্ছেন, এমন উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্ত এ ধরনের উদাহরণ সামাজিক সংবেদনশীলতার পরিপন্থী বলে অনেকের অভিমত। তাঁদের মতে, পাঠ্যবইয়ের দৌলতে শিশুরা ছোট থেকেই এই ধারণা নিয়ে বড় হবে যে, গোয়ালা মাত্রেই দুধে জল মেশানোর মতো অনৈতিক কাজ করেন। তাই ওই ধরনের প্রসঙ্গে কোনও নির্দিষ্ট সমাজ বা সম্প্রদায়ের নাম ব্যবহার না-করে শুধু ব্যক্তির নাম ব্যবহার করা উচিত বলে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে পাঠ্যক্রম কমিটিকে।