ওঙ্কার ডেস্ক: উত্তরবঙ্গের তিস্তা নদী সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা অবৈধ বালি পাচার কার্যত বড় ধাক্কা খেল প্রশাসনের সক্রিয়তায়। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রশাসন কঠোর অবস্থান নেওয়ায় রংধামালি সহ তিস্তা নদীর বিভিন্ন ঘাট থেকে একের পর এক বালি মাফিয়ারা গা ঢাকা দিতে শুরু করেছে। যে সমস্ত এলাকায় এতদিন প্রকাশ্যে নদীর বুক চিরে ট্রাক, ডাম্পার ও ভারী যন্ত্রের সাহায্যে অবাধে বালি তোলা হত, সেখানে এখন অনেকটাই স্তব্ধ পরিস্থিতি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বহু বছর ধরে প্রভাবশালী চক্র প্রশাসনিক দুর্বলতা ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নদী থেকে বিপুল পরিমাণ বালি উত্তোলন করে আসছিল। নদীর চরে রাস্তা কেটে, ভারী পোকলিন ও অন্যান্য যন্ত্র ব্যবহার করে প্রতিদিন রাতদিন বালি তোলা হত। এর ফলে শুধু সরকারি রাজস্বের বিপুল ক্ষতিই হয়নি, একইসঙ্গে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়েছে এবং পরিবেশের উপরও মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। নদী তীরবর্তী বহু এলাকায় ভাঙন বেড়েছে, বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বর্ষাকালে বন্যার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রশাসনের সাম্প্রতিক অভিযানে একটি অবৈধ খাদান থেকে পোকলিন মেশিন বাজেয়াপ্ত হওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতির মোড় ঘুরতে শুরু করে। মহকুমা প্রশাসন, পুলিশ ও ভূমি দপ্তরের যৌথ তৎপরতায় একাধিক এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নিয়মিত টহলদারি চালানো হচ্ছে, যাতে পুনরায় অবৈধ উত্তোলন শুরু না হতে পারে। প্রশাসনের কড়াকড়ির ফলে পাচারচক্রের সদস্যরা আপাতত এলাকা ছেড়ে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জানিয়েছেন, এতদিন ধরে নদী লুট চললেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাব ছিল। কিন্তু বর্তমানে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তাঁদের মতে, এই নজরদারি অব্যাহত থাকলে নদী ও পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব হবে।
প্রশাসন সূত্রে ইঙ্গিত, শুধু তিস্তা নয়, উত্তরবঙ্গের অন্যান্য নদীতেও অবৈধ বালি ও পাথর, কয়ালা পাচারের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে যুক্তদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে। দীর্ঘদিনের দৌরাত্ম্যের পর প্রশাসনের এই পদক্ষেপ তিস্তা তীরবর্তী অঞ্চলে পরিবেশ রক্ষা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।