ওঙ্কার ডেস্ক: বারুইপুর ঘটনায় এবার নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গেলেন ‘আসল তৃন্মুল’-এর ঋতব্রত। পাশাপাশি এলাকার সাংসদ সায়নী ঘোষ সহ কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও পরিদর্শনে যান। সাংসদ সায়নী ঘোষ পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং পুর্ন তদন্তের আশ্বাসও দেন বলে জানান তিনি। অন্যদিকে কাকলি ঘোষদোস্তিদার সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কাকলি ঘোষদস্তিদার জানান তারা সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর কথায় গিয়েছেন। প্রসঙ্গত মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও বারুইপুরে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে। রবিবার দিন তিনি নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং তাদের কলকাতার ভবানিভবনে দেখা করেতে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
মঙ্গলবার দিন সকালে বারুইপুর গিয়ে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে সম্প্রত দল পালটানো সাংসদ সায়নী ঘোষ, কাললি ঘোষদস্তিদার। এলাকায় যাওয়ার পর পুলিশের সঙ্গে বচসায় তাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বলে জানা যায়। পরে বারুইপুর এর সাংসদ হওয়ার দরুন সায়নী যাওয়ার অনুমতি পান। তিনি নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শে এদিন এই দল বারুইপুর গিয়েছেন এবং দোষীদের কঠোরতম শাস্তির জন্য প্রশাসন তৎপর বলে জানান কাকলি ঘোষদস্তিদার। সোমবার কালীঘাট তৃণমূলের একটি প্রতিনিধি দলও বারুইপুর যান। ঐ দলে ছিলেন দোলা সেন, প্রতিমা মন্ডল এবং বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘটনার দিন পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার বিকেলে মোমবাতি মিছিল করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বারুইপুরে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন সহসিপিএমের একটি প্রতিনিধি দল। পরিবারের সঙ্গেদেখা করেছেন সুজন চক্রবর্তী, শমিক লাহিড়ী, লাহেক আলী দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এখনো ক্ষোভে ফুসছেন এলাকার মানুষজন।
প্রসঙ্গত, রবিবার বারুইপুরে সুর্যাপুর এলেকায় এক পুকুর থেকে ১১ বছর বয়সী এক নাবালিকার বস্তাবন্দী দেহ উদ্ধার করে এলাকার মানুষ। শনিবার বিকেল থেকে নিখোঁজ থাকার পর এক ব্যাক্তিকে জেরা করে নাবালিকার দেহের সন্ধান পায় পরিবারের লোকজন। দেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তে পাঠালে গণধর্ষণের প্রমাণ মেলে। মাথায় ভারি কিছু দিয়ে আঘাতের নিশানও পাওয়া যায়। জলে ডুবে যাওয়ায় মৃত্যুর কারণ বলে জানা যায় ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট থেকে। নির্যাতিতার পরিবার মোট যার জনের নামে এফআইআর দায়ের করে। বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত চারজনের মধ্যে ইন্দ্রজিৎ তাঁতি নামের একজনকে পিটিয়ে মেরে ফেলে। রবিবার দিন দুইজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সোমবার দিন ঘটনার মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার তাদের আদালতে পেশ করা হলে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত। ঘটনার পুর্ন তদন্ত এবং দোষীদের যথাযথ শাস্তির আশ্বাস দেয় প্রশাসন।