ওঙ্কার ডেস্ক: নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় রবিবার দিনভর উত্তাল হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে ইতিমধ্যে দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে আরও তিন জনকে আটক করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যে কোনও ধরণের বিক্ষোভ ও জমায়েত রুখতে বারুইপুরের তিনটি থানা এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করল পুলিশ। সোমবার সকাল থেকে বারুইপুর, নরেন্দ্রপুর এবং সোনারপুর থানা এলাকায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। এই বিধি অনুযায়ী তিন থানা এলাকায় পাঁচ জন বা তার বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ।
রবিবার দেহ উদ্ধারের পর রাস্তা আটকে বিক্ষোভ দেখান মানুষ। অভিযুক্ত সন্দেহে একজনের গণপিটুনিতে মৃত্যু হয়েছে। বিক্ষোভ দমন করতে ওই দিন লাঠি চার্জ করে পুলিশ। রবিবারের মতো সোমবার যাতে বিক্ষোভ না হয় সে কারণে এদিন সকাল থেকে তৎপর পুলিশ। রবিবার পুলিশকে মারধ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যে ছয় সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করা হয়েছে। রবিবারই মুখ্যমন্ত্রী নির্যাতিতা নাবালিকার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। দোষীদের কঠোর শাস্তির আশ্বাস দেন তিনি। যদিও বিক্ষোভকারীদের দাবি, অভিযুক্তদের প্রশ্রয় দিয়েছেন স্থানীয় এক বিজেপি নেতা। রবিবার রাতভর অভিযুক্তদের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান চালিলায় পুলিশ। দু’জনকে গ্রেফতারির পাশাপাশি তিন জনকে আটক করেন তদন্তকারীরা। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বারুইপুরের ঘটনায় মোট তিনটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। তার মধ্যে একটি নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের, একটি গণপিটুনিতে মৃত্যু, আরেকটি পুলিশকে মারধর।
বারুইপুরের নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় সরব হয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই ঘটনায় বিজেপিকে নিশানা করেছেন। ইতিমধ্যে মমতা এবং অভিষেক নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন। সোমবার ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই কর্মসূচি আপাতত বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইএসএফ।