স্পোর্টস ডেস্ক : ৬৮ মিনিটে তিনি যখন গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলির পরিবর্তে মাঠে নামছেন, তখন উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন ব্রাজিল সমর্থকরা। তখনও কোনও দলই গোল করতে পারেনি। ব্রাজিল শিবিরের আশা ছিল, নরওয়ের বিরুদ্ধে গোল করে দলকে জেতাবেন নেইমার। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে তিনি গোল পেলেন বটে, কিন্তু পেনাল্টি থেকে তাঁর একমাত্র গোলটির আগেই জোড়া গোল করে দিয়েছেন নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হ্যালান্ড। ফলে নেইমারের গোল কাজে লাগল না। ১-২ হেরে এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল থেকে বিদায় নিল ব্রাজিল।
চতুর্থবার বিশ্বকাপ খেলতে নেমে এবারও খালি হাতেই ফিরতে হচ্ছে নেইমারকে। তিনি হয়তো শেষ বিশ্বকাপ খেলে ফেললেন। নেইমার কেঁদে ফেলেন। সতীর্থরা তাঁর কান্না থামাতে পারছিলেন না। রেফারি ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজাতেই মাঠে হাঁটু গেড়ে বসেন পড়েন নেইমার। প্রথমে তিনি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন। তারপর কাঁদতে শুরু করেন। গ্যালারিতে থাকা অনেক ব্রাজিল সমর্থকের চোখেও তখন জল। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা বিদায় নেওয়ায় সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি ব্রাজিল সমর্থক হতাশ। এই ম্যাচের পর তিনি চোখে জল নিয়ে নেইমার বলেছেন, ‘আমি চেষ্টা করেছিলাম। অনেক চেষ্টা করেছিলাম। এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই আমি খেলা শুরু করেছিলাম, এখানেই খেলা শেষ করলাম। আমার খেলা শেষ। আমি আর আন্তর্জাতিক ফুটবলে খেলব না।’
২০১৪ সালে প্রথম ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপ ফুটবলে খেলেন নেইমার। সেবার কোয়ার্টার-ফাইনালে কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে কোমরে মারাত্মক চোট পান এই তারকা। এরপর তিনি চোট সারিয়ে মাঠে ফিরে ২০১৮, ২০২২ ও এবারের বিশ্বকাপে খেললেন। কিন্তু বারবার চোটের কবলে পড়তে হয়েছে। সেই হতাশা এবং দেশকে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেতাব এনে দিতে না পারার দুঃখ থেকেই অবসর ঘোষণা করে দিলেন নেইমার।