ওঙ্কার ডেস্ক: ভারত কেশরী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫-তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে কলকাতার ভবানীপুরের ঐতিহাসিক মিত্র ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই স্কুলেই ছাত্রজীবনের উল্লেখযোগ্য সময় কাটিয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। সেই ঐতিহ্যকে সামনে রেখেই তাঁর অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গের স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন, কর্ম এবং দেশগঠনে তাঁর অবদান অন্তর্ভুক্ত করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, স্বাধীনতা-পরবর্তী ভারত গঠন, পশ্চিমবঙ্গের অস্তিত্ব রক্ষা, রাষ্ট্রপ্রেম, অখণ্ড ভারতের ধারণা এবং শিক্ষাক্ষেত্রে শ্যামাপ্রসাদের ভূমিকা সম্পর্কে বর্তমান প্রজন্মের জানা অত্যন্ত জরুরি। তাই তাঁর জীবন ও আদর্শকে পাঠ্যসূচির অংশ করা হবে। পড়ুয়াদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বার্থকে সর্বাগ্রে রাখাই প্রকৃত দেশপ্রেমের পরিচয়। তিনি বারবার “নেশন ফার্স্ট” বা “সবার আগে দেশ” মন্ত্র উচ্চারণ করে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে রাষ্ট্রবাদ ও জাতীয়তাবোধ জাগিয়ে তোলার আহ্বান জানান। তাঁর দাবি, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের চিন্তাধারা ও আদর্শ আগামী দিনের সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এদিন তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তাঁর মতে, বামফ্রন্ট এবং তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে ইতিহাসের মূলধারা থেকে দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটিয়ে তাঁর চিন্তা ও আদর্শকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু পাঠ্যক্রম নয়, মিত্র ইনস্টিটিউশনের উন্নয়নের জন্যও একাধিক পদক্ষেপের ঘোষণা করেন তিনি। বিদ্যালয়ের সংস্কারের জন্য নিজের বিধায়ক তহবিল থেকে ২৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করার কথা জানান। পাশাপাশি, ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের মূল কাঠামো অক্ষুণ্ণ রেখে স্কুলটির সংস্কার করা হবে বলে আশ্বাস দেন। এছাড়া বিদ্যালয়টিকে পিএম শ্রী প্রকল্পের আওতায় আনার কথাও ঘোষণা করেন তিনি।