ওঙ্কার ডেস্ক: দক্ষিণ দিল্লির লোধি কলোনি এলাকায় একটি সরকারি আবাসনের নীচ থেকে উদ্ধার হয় ২৮ বছর বয়সি আকৃতি সুতারের রক্তাক্ত দেহ। মাত্র আড়াই মাসের দাম্পত্য জীবনের মধ্যেই এই মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে আত্মহত্যা নাকি খুন তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, পণের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের পর পরিকল্পিতভাবে তাঁকে খুন করা হয়েছে। অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত চলছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল আকৃতির বিয়ে হয় আরস্তু সিক্কার সঙ্গে। পরিবারের দাবি, প্রায় আট বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর দু’জনের বিয়ে হলেও বিয়ের পর থেকেই দাম্পত্য সম্পর্কে অশান্তি শুরু হয়। অভিযোগ, স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা ২০ লক্ষ টাকা পণের দাবি করতে থাকেন। সেই দাবি পূরণ না হওয়ায় আকৃতির উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হত বলেও অভিযোগ পরিবারের। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় আকৃতি তাঁর মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, অফিস থেকে বাড়ি ফিরছেন। পরিবারের দাবি, সেই সময় তাঁর কথাবার্তায় কোনও অস্বাভাবিকতা ছিল না। কিছুক্ষণ পর আকৃতির স্বামী ফোন করে জানান, তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর পুলিশ পরিবারের সদস্যদের জানায়, লোধি কলোনির একটি সরকারি আবাসনের নীচে এক তরুণীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। পরে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে আকৃতির দেহ শনাক্ত করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া দেহটি বহুতলের তৃতীয় তলা থেকে পড়ে যাওয়ার ফলে গুরুতর জখম হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। তবে কীভাবে তিনি ওই ভবনে পৌঁছলেন এবং কীভাবে নিচে পড়লেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। মৃতার পরিবারের দাবি, আকৃতি যে আবাসনের সামনে উদ্ধার হয়েছেন, সেটি তাঁর বাড়ি থেকে অনেক দূরে। সেখানে তাঁর যাওয়ার কোনও কারণ ছিল না। পরিবারের আরও অভিযোগ, ঘটনাস্থলে রক্তের দাগ প্রায় ছিল না। তাই তাঁদের সন্দেহ, অন্য কোথাও খুন করার পর দেহটি সেখানে এনে ফেলে রাখা হয়ে থাকতে পারে। পরিবারের এক সদস্য জানান, বিয়ের জন্য দীর্ঘ ছুটি কাটিয়ে আকৃতি সম্প্রতি আবার কাজে যোগ দিয়েছিলেন। সহকর্মীদের জন্য একটি ছোট অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করেছিলেন। কর্মজীবন এবং সংসার দু’টিকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। সেই অবস্থায় আচমকা এমন মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার স্বাভাবিকভাবেই গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছে।