ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যসভার তিনটি শূন্য আসনে উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৪ জুলাই এই তিনটি আসনের জন্য ভোটগ্রহণ হবে। একই দিন ভোটগণনাও সম্পন্ন করা হবে। কমিশনের ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে, কারণ এই নির্বাচনকে ঘিরে শাসক ও বিরোধী উভয় পক্ষই নিজেদের কৌশল সাজাতে শুরু করেছে।
নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি হবে। এরপর শুরু হবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দেবেন। পরে মনোনয়নপত্র যাচাই এবং প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। যদি বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা শূন্য আসনের সংখ্যার চেয়ে বেশি হয়, তাহলে ২৪ জুলাই ভোটগ্রহণ হবে। আর যদি প্রার্থীর সংখ্যা আসনের সমান থাকে, তাহলে ভোট ছাড়াই তাঁদের নির্বাচিত ঘোষণা করা হতে পারে।
ছাব্বিশের নির্বাচনের পর বাংলায় একপ্রকার ধরাশায়ী তৃণমূল। নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করে মমতার হাত ছেড়ে যায় বিজয়ী বিধায়কেরা। পরে সেই বিরোধের আঁচ গিয়ে পরে দিল্লিতেও। ২০ জন সাংসদ তৃণমূল ছেড়ে আসমের এক বেনামী দলে ভীরে যায়, যা ইন্ডিয়া জোটের শারিক। সেই আবহে গত জুন মাসে তৃণমূলের তিন সাংসদ, সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশচিক বরাইক রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। এই তিনটি আসন শূন্য হওয়ার পর থেকেই উপনির্বাচনের অপেক্ষায় ছিল রাজনৈতিক দলগুলি। বিধানসভায় বর্তমান সংখ্যার বিচারে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। সেই কারণে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এই তিনটি আসনেই শাসক দল বিজেপির জয়ের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। তবে বিরোধী দলগুলি প্রার্থী দেয় কি না এবং দিলে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান কী হবে, তা নিয়েও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচন সরাসরি সাধারণ ভোটারের মাধ্যমে হয় না। বিধানসভার নির্বাচিত সদস্যরাই নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে ভোট দিয়ে রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচন করেন। ফলে বিধানসভায় যে দলের যত বেশি বিধায়ক রয়েছে, তাদের প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনাও তত বেশি থাকে। সেই কারণেই পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে এই উপনির্বাচনের ফলাফল অনেকটাই আগাম অনুমান করা সম্ভব বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।