ওঙ্কার ডেস্ক: তারাতলায় নির্মীয়মাণ বহুতল ভবন ভেঙে পড়ার মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর শহরের সমস্ত নির্মীয়মাণ বাণিজ্যিক ভবন নিয়ে কড়া অবস্থান নিল কলকাতা পুরসভা। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে শহরজুড়ে নির্মীয়মাণ বাণিজ্যিক ভবনগুলির উপর বিশেষ নজরদারি চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যৌথ পরিদর্শক দলের অডিটে সন্তোষজনক রিপোর্ট না মিললে কোনও প্রকল্পকে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (এনওসি) দেওয়া হবে না। সমস্ত নথি, বৈধ অনুমতি, নির্মান সামগ্রী খতিয়ে দেখেই দেওয়া হবে সবুজ সংকেত।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি এলাকায় একাধিক যৌথ পরিদর্শক দল গঠন করা হচ্ছে। এই দলগুলিতে কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের আধিকারিকদের পাশাপাশি পূর্ত দফতর, দমকল, সিভিল ডিফেন্স, কলকাতা পুলিশ, বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা এবং প্রয়োজনে অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রতিনিধিরাও থাকবেন। তাঁদের মূল দায়িত্ব হবে নির্মীয়মাণ ভবনগুলির কাঠামোগত নিরাপত্তা, অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কি না, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, নির্মাণসামগ্রীর মান এবং নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে মেনে চলা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা।
পুরসভার বক্তব্য, শুধুমাত্র কাগজপত্র দেখে আর ছাড়পত্র দেওয়া হবে না। প্রতিটি প্রকল্পের বাস্তব পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করে নিশ্চিত হতে হবে যে নির্মাণকাজে কোনও ধরনের গাফিলতি বা অনিয়ম নেই। অডিটে যদি কোনও ত্রুটি বা নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি ধরা পড়ে, তাহলে সংশ্লিষ্ট নির্মাণ সংস্থাকে তা সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
জানা গিয়েছে, তারাতলার দুর্ঘটনার পর থেকেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় নির্মীয়মাণ বাণিজ্যিক ভবনের তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। কোন ভবনের কাজ কতদূর এগিয়েছে, কোথায় কী ধরনের নির্মাণ চলছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলির অনুমোদনের অবস্থা সবকিছুর উপর নজর রাখা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে হওয়া প্রকল্পগুলিকে অগ্রাধিকার দিয়ে পরিদর্শনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। কোনও ধরনের গাফিলতির কারণে যাতে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কারণ না হয়, সেদিকেই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাই ভবিষ্যতে নির্মীয়মাণ বাণিজ্যিক ভবনের ক্ষেত্রে আরও কঠোর নজরদারি, নিয়মিত অডিট এবং নির্ধারিত মান বজায় রাখার উপর জোর দিচ্ছে কলকাতা পুরসভা।