ওঙ্কার ডেস্ক: রাজ্যে সরকারি স্কুলে নীল সাদা পোশাক চালু করেছিল পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকার। বছরে দুই দফায় রাজ্য সরকার কতৃক সেই পোশাক দেওয়া হত ছাত্র-ছাত্রীদের। জুন-জুলাই মাসে দ্বিতীয় দফার পোশাক বিতরণ করা হয়ে থাকে। কিন্তু চলতি বছরে মে মাসেই রাজ্যে পালা বদলের পর বিদ্যালয়ের পোশাক নিয়ে অনিশ্চয়তার মাঝে রাজ্য সরকার জানিয়ে দিয়েছে যে, এবছরের মত নীল-সাদা পোশাকই দেওয়া হবে বিদ্যালয় গুলিতে, কিন্তু বাদ দতে হবে ‘বিশ্ব বাংলা’-র লোগো।
সরকারি সূত্রের খবর, নতুন প্রশাসন স্কুল ইউনিফর্মকে রাজনৈতিক প্রতীক বা কোনও নির্দিষ্ট সরকারের পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত রাখতে আগ্রহী নয়। সেই কারণেই ভবিষ্যতে নতুন রঙের ইউনিফর্ম চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে তা কার্যকর করার আগে সমস্ত প্রশাসনিক ও আর্থিক দিক খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি ইউনিফর্মের নকশা, রং এবং সরবরাহ সংক্রান্ত বিষয়েও বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করা হবে। শিক্ষা মহলের মতে, ইউনিফর্ম পরিবর্তনের মতো সিদ্ধান্তে পর্যাপ্ত সময় নেওয়াই যুক্তিযুক্ত। কারণ রাজ্যের লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার জন্য একসঙ্গে নতুন ইউনিফর্ম চালু করা একটি বড় উদ্যোগ। তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে উৎপাদন, বিতরণ এবং অভিভাবকদের আর্থিক সামর্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও। সেই কারণে এক বছরের জন্য পুরনো ইউনিফর্ম বহাল রাখার সিদ্ধান্ত বাস্তবসম্মত বলেই মনে করা হচ্ছে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারাও উপকৃত হবেন। শুধুমাত্র কোচবিহার জেলাতেই ইউনিফর্ম তৈরির কাজের জন্য স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা প্রায় ১০ কোটি টাকার মজুরি পাবেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। ফলে একদিকে যেমন স্কুল পড়ুয়াদের নির্ধারিত সময়ে ইউনিফর্ম পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে, তেমনই অন্যদিকে স্থানীয় স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কর্মসংস্থানও নিশ্চিত হবে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, প্রি-প্রাইমারি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রদের প্রত্যেককে একটি করে হাফপ্যান্ট ও হাফশার্টের পাশাপাশি একটি করে ফুলপ্যান্ট ও ফুলশার্ট দেওয়া হয়। অন্যদিকে, ছাত্রীদের ক্ষেত্রে প্রি-প্রাইমারি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত দু’সেট করে শার্ট ও টিউনিক দেওয়া হয়। তৃতীয় থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রীদের দু’সেট করে স্কার্ট ও শার্ট প্রদান করা হয়। আর সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীদের জন্য দু’সেট চুড়িদার ও ওড়নার ব্যবস্থা রয়েছে।