নিজস্ব প্রতিনিধি, পূর্ব বর্ধমান: কেবল মাত্র মুখ্য মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নন, জঙ্গি হামিম মণ্ডলের রাডারে ছিল। হামিম মণ্ডল এবং তাঁর বান্ধবী অর্পিতা সরকারের গ্রেফতারের পর STF-এর প্রাথমিক তদন্তে এমনটাই উঠে এসেছে। এমন কি হামিম ও অর্পিতাকে জেরা করে STF ইতিমধ্যে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম এরা পুলিশের উর্দি জোগাড় করে যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে নাশকতার ছক কষেছিল। দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্রবিক্ষোভেও নাকশতার ছক কষেছিল জঙ্গিরা। হামিম মণ্ডল এবং তাঁর বান্ধবী অর্পিতা সরকারের গ্রেফতারির পর তদন্তে এমনটাই উঠে আসছে। এর জন্য পুলিশের উর্দি জোগাড় করারও পরিকল্পনা করা হয়েছিল। শনিবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠকে এ কথা জানালেন স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স-এর আইজি গৌরব শর্মা। তবে হামিম যন্তর মন্তরে গিয়েছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। তিনি পুলিশের উর্দি জোগাড় করে উঠতে পেরেছিলেন কি না, সেই বিষয়টি এখনও তদন্তসাপেক্ষ। বর্ধমান থেকে ধৃত জঙ্গি হামিম বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ থেকে ধরা পড়েছেন তাঁর বান্ধবী অর্পিতা। শনিবার তাঁকে বর্ধমান আদালতে হাজির করানো হলে বিচারক ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে জঙ্গিদের নিশানায় ছিলেন, তা শুক্রবারই জানা যায়। এ বার জানা গেল শুধু মুখ্যমন্ত্রী নন, জঙ্গিদের নিশানায় ছিলেন বেশ কয়েকজন পুলিশ আধিকারিক এবং রাজনীতিক। এসটিএফ-এর প্রাথমিক তদন্তে তেমনটাই উঠে এসেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, সম্প্রতি উত্তর হাওড়ার বিধায়ক তথা মন্ত্রী উমেশ রায়ের পুত্রকে অপহরণের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই এই জঙ্গিচক্রের সন্ধান পায় এসটিএফ। অর্পিতার সমাজমাধ্যম হ্যান্ডলের সূত্র ধরে খোঁজ মেলে হামিমের। এসটিএফ-এর আইজি জানিয়েছেন, গত চার বছর ধরে অর্পিতার সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে হামিমের। প্রথমে ইনস্টাগ্রামে যোগাযোগ হয়। পরে দেখাও করেন তাঁরা। হামিম এবং অর্পিতার মধ্যে অ্যাফেয়ার ছিল বলেও জানাচ্ছে এসটিএফ। তদন্তকারীদের দাবি, গত কয়েক মাসে অর্পিতার মাধ্যমে হামিম বিভিন্ন ভাবে জাল ছড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। হামিমকে জেরা করে তদন্তকারীরা আরও বেশ কয়েকটি হ্যান্ডলের সন্ধান মেলে— যেমন, রাণা, উজ়েইর, আবিদ জাট 333, হামাদ। সবগুলিই পাকিস্তানি হ্যান্ডল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। গত দুই-তিন মাস ধরে এই হ্যান্ডলগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে হামিমের। প্রথমে ইনস্টাগ্রামে ফলো করতে শুরু করেন। তার পরে হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রামেও যোগাযোগ হয়। তদন্তকারীদের সন্দেহ, এই হ্যান্ডলগুলি পাকিস্তানি গ্যাংস্টার শাহজ়াদ ভট্টির দুষ্কৃতীদলের সঙ্গে যুক্ত।