নিজস্ব প্রতিনিধি, পশ্চিম মেদিনীপুর; ফের সন্ত্রাস দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার পাণ্ডবেশ্বর এর তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য শেখ কামরুদ্দিন। কয়েকদিন আগেই পাণ্ডবেশ্বরের ছোড়া পঞ্চায়েতের প্রধান সন্ত্রাস ও দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হন, শনিবার সেই গ্রেফতারের সংখ্যা আরো একটি বাড়লো। শনিবার রাত্রে পাণ্ডবেশ্বর থানার পুলিশ এলাকায় সন্ত্রাস ও তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার করলো তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য তথা পাণ্ডবেশ্বর সাউথ শ্যামলা কোলিয়ারির শ্রমিক সংগঠনের সেক্রেটারি কামরুদ্দীন শেখকে। এদিন সকালে পুলিশ তাকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করে। যদিও কামরুদ্দিনের দাবি সে নির্দোষ কোনরকম অবৈধ কয়লা,লোহা, বালি চুরিতে যুক্ত নয় শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই তাকে গ্রেফতার করানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, দিনকয়েক আগে দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল কৃষ্ণনগর 1 নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ সরজিৎ বিশ্বাসকে ৷ তিনি দিগনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধানও। দিগনগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় স্থানীয় একটি দেশি মদ তৈরির কারখানায় ঠিকাদারের মাধ্যমে লেবার সাপ্লাইয়ের কাজ করতেন এই সরজিৎ। তাঁর বিরুদ্ধে কর্মরত কর্মীদের কাছ থেকে তোলা আদায়ের অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানায় সরজিতের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়৷ এরপর কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।
রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পরে নির্বাচনী হিংসা ও অপরাধ দমনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া নির্দেশে রাজ্য জুড়ে চলছে পুলিশের বিশেষ অভিযান। দুর্নীতি ও ডাকাতির ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে বিভিন্ন জেলা থেকে আরও বেশ কয়েকজন তৃণমূল নেতা ও জনপ্রতিনিধিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড় থানার পুলিশ ইতিমধ্যে বর্ধমান–২ ব্লকের তৃণমূল সভাপতি তথা পঞ্চায়েত সমিতির স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ পরমেশ্বর কোঁয়ার এবং কুড়মুন–২ পঞ্চায়েতের প্রধান বাসুদেব দে-কে গ্রেপ্তার করেছে। বলগোনা গ্রামের বাসিন্দা উত্তম রাজবংশীকে পাঁচ লক্ষ টাকার জন্য চাপ দেওয়া, জোর করে এক লক্ষ টাকা আদায় এবং মারধরের অভিযোগে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। যদিও আদালতে হাজির করানোর সময়ে পরমেশ্বর দাবি করেন, ‘পরিকল্পনা মাফিক এগোচ্ছে পুলিশ। মিথ্যা ভাবে আমাদের ফাঁসিয়েছে।’
এ দিকে, এই গ্রেপ্তারি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে পূর্ব বর্ধমানের পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করে তৃণমূলের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম। দলের সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল জোর করে সাদা কাগজে সই করিয়ে ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলারের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়ার অভিযোগ তোলেন পুলিশের বিরুদ্ধে। এই টিমে প্রাক্তন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ ও জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ও ছিলেন। এর পাশাপাশি জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে বর্ধমান থানার দুবরাজদিঘি থেকে শেখ আসাদুল ওরফে রানা এবং মেমারি থেকে সামিম খান ওরফে সামিম শেখকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও তিন রাউন্ড কার্তুজ সমেত গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ দিকে, চাকরি দেওয়ার নামে অমিত হালদার নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে দেড় লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে নাদনঘাট থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে পূর্ব বর্ধমানের কালনার নসরতপুর পঞ্চায়েতের জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ তথা তৃণমূল নেতা অমল হালদারকে। তবে কালনা মহকুমা আদালতে হাজির করানো হলে বিচারক তাঁকে জামিনে মুক্তি দেন। অমল অবশ্য এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করেছেন।
তোলা আদায় এবং ভোট–পরবর্তী হিংসার অভিযোগে পশ্চিম বর্ধমানের অন্ডাল থানার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভার ছোড়া পঞ্চায়েতের প্রধান রামচরিত পাসোয়ান। দুর্গাপুর মহকুমা আদালত তাঁর ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
ডাকাতির পরিকল্পনায় যোগসাজশের অভিযোগে স্কুলডাঙার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বাঁকুড়া শহর তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি সূরজ বক্সকে। রাজগ্রাম–শ্যামডাঙার রাস্তায় ডাকাতির উদ্দেশ্যে জড়ো হওয়া দুই দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তারের পরে তদন্তে এই ছাত্র নেতার নাম উঠে আসে। বাঁকুড়া জেলা আদালত তাঁকে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়। যদিও আদালতে ঢোকার মুখে সূরজ দাবি করেন, তিনি গ্রেপ্তারির কারণই জানেন না। এরকমই এক ব্যক্তিকে ভয় দেখিয়ে ও চাপে ফেলে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বাঁকুড়ার ইন্দাস পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি চন্দন রক্ষিতকে গ্রেপ্তার করে ইন্দাস থানার পুলিশ। এভাবেই রাজ্য জুড়ে চলছে পুলিশি ধরপাকড়।