ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর ভোটগণনায় সকাল থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে টানটান উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৯৩টি কেন্দ্রে গণনা শুরু হতেই প্রাথমিক ট্রেন্ডে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার ছবি উঠে এসেছে। বহু গুরুত্বপূর্ণ আসনে হাই-প্রোফাইল প্রার্থীদের ফলাফল ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে।
সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে ভবানীপুর কেন্দ্র, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুরুতে চাপে পড়েছেন বলে ট্রেন্ডে ইঙ্গিত। বিজেপির তরফে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাচ্ছে। নন্দীগ্রামেও শুভেন্দু অধিকারী ৩০০০টি ভোটে এগিয়ে থেকে নিজের রাজনৈতিক জমি আরও মজবুত করার পথে। এই দুই কেন্দ্রের ফলাফল রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক বার্তা নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
উত্তরবঙ্গের একাধিক আসনে বিজেপি উল্লেখযোগ্যভাবে ভালো ফল করছে। কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং-সহ বেশ কিছু কেন্দ্রে গেরুয়া শিবির এগিয়ে রয়েছে। জঙ্গলমহলের কয়েকটি আসনেও বিজেপির প্রার্থীরা লড়াইয়ে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছেন। অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গ, বিশেষত কলকাতা ও সংলগ্ন বহু এলাকায় তৃণমূল এখনও উল্লেখযোগ্য প্রভাব বজায় রেখেছে। মুর্শিদাবাদ, মালদহ ও বহরমপুর অঞ্চলে কংগ্রেস কিছু আসনে ভালো লড়াই দিচ্ছে। বহরমপুরে কংগ্রেসের হুমায়ুন কবীর এবং মালদহের কিছু কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থীদের এগিয়ে থাকার খবর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তবে বামফ্রন্টের পক্ষে সামগ্রিক চিত্র আশাব্যঞ্জক নয়। সিপিএমের বহু পরিচিত মুখ পিছিয়ে পড়েছেন এবং অধিকাংশ আসনেই তারা তৃতীয় বা চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছেন।
উত্তরপাড়া, রানাঘাট, বসিরহাট, মিনাখাঁ, ফাঁসিদেওয়া, তুফানগঞ্জ-সহ একাধিক কেন্দ্রে ত্রিমুখী বা সরাসরি সংঘর্ষে ফল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। শহুরে এলাকায় বিজেপির ভোটব্যাঙ্ক কিছুটা শক্তিশালী হলেও গ্রামীণ ও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত অঞ্চলে তৃণমূল তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
এখনও পর্যন্ত প্রাপ্ত ট্রেন্ড অনুযায়ী, বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকে এগোলেও রাজ্যে তিনবার নির্বাচিত ঘাসফুল শিবিরও বেশ শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছে। ফলে বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণে এবারের নির্বাচন যে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা স্পষ্ট। গণনা যত এগোবে, ততই পরিষ্কার হবে শেষ পর্যন্ত কোন দল ক্ষমতার মসনদে বসতে চলেছে এবং কোন নেতাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নতুন মোড় নিতে চলেছে।