ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন সকাল থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বে তীব্র ব্যস্ততা লক্ষ্য করা গিয়েছে। কালীঘাটের বাসভবন থেকেই রাজ্যের ৭৭টি গণনাকেন্দ্রের উপর সরাসরি নজরদারি শুরু করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট গণনার প্রতিটি রাউন্ড, প্রার্থীদের এগিয়ে বা পিছিয়ে পড়ার হিসাব, বিভিন্ন কেন্দ্রের পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য অভিযোগের উপর নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ চালানো হয়। কালীঘাট কার্যত এদিন দলীয় ওয়াররুমে পরিণত হয়, যেখানে নির্বাচন-পরবর্তী প্রতিটি মুহূর্তের রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ চলতে থাকে।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছিল তৃণমূল নেতৃত্ব। প্রতিটি গণনাকেন্দ্রে নিযুক্ত কাউন্টিং এজেন্টদের একাধিক দফায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল যাতে কোনওরকম অনিয়ম, বিভ্রান্তি বা বিরোধীদের চাপের মুখেও তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও বারবার নির্দেশ দিয়েছিলেন, গণনাকেন্দ্রে কোনও অসঙ্গতি নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে শীর্ষ নেতৃত্বকে জানাতে হবে। ফল ঘোষণার দিন সেই কৌশল বাস্তবে রূপ পায়। কালীঘাট থেকে সরাসরি প্রতিটি জেলার সংগঠনিক নেতৃত্ব, প্রার্থী এবং পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়। কোথাও পুনর্গণনার দাবি উঠছে কিনা, কোথাও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে কিনা, কিংবা বিরোধী পক্ষ কোনও অভিযোগ তুলছে কিনা সবকিছুর উপর নিবিড় নজর রাখা হয়।
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও সমান্তরালভাবে গোটা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলিতে ফলাফলের ওঠানামা নিয়ে দ্রুত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রস্তুতিও ছিল। বিশেষ করে যেসব আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা ছিল, সেখানে দলীয় পর্যবেক্ষণ আরও জোরদার করা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সক্রিয় নজরদারি শুধুমাত্র ফলাফল পর্যবেক্ষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা ছিল তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি কৌশলগত দখলের প্রতিফলন। নির্বাচনের দিন থেকে গণনার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার বার্তা দিয়েছে শাসকদল। ফল ঘোষণার দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সরাসরি তদারকি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বাংলার ক্ষমতার লড়াইয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত রাজনৈতিক সতর্কতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর তৃণমূল কংগ্রেস।