ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা ঘিরে সোমবার সকাল থেকেই চরম উত্তেজনা রাজ্যজুড়ে। ফলতা কেন্দ্রের নির্বাচন স্থগিত থাকায় আপাতত ২৯৩টি আসনের ফলাফল প্রকাশের দিকেই নজর রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের। সরকার গঠনের লক্ষ্যে ম্যাজিক ফিগার ১৪৮। আর সেই লক্ষ্যপূরণে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে মূল লড়াই ঘিরে সকাল থেকেই দফায় দফায় বদলেছে রাজনৈতিক সমীকরণ।
প্রথম দফার গণনায় বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে বিজেপি এগিয়ে থাকে। দক্ষিণবঙ্গের বহু গুরুত্বপূর্ণ আসনে তৃণমূলের সংগঠনিক শক্তির প্রতিফলন স্পষ্ট হয়েছে। কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি এবং পূর্ব মেদিনীপুরের একাধিক কেন্দ্রে ঘাসফুল শিবির উল্লেখযোগ্য সুবিধা অর্জন করে। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের কিছু আসনে বিজেপি তাদের প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা চালায়।
নন্দীগ্রাম, ভবানীপুর, খড়্গপুর সদর, বোলপুর, শিলিগুড়ির মতো হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্রগুলিতে ভোটগণনা ঘিরে বাড়তি আগ্রহ দেখা যায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনগুলির ফলাফল শুধু সরকার গঠনের প্রশ্নে নয়, আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক শক্তির ভারসাম্য নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে উন্নয়ন, সামাজিক প্রকল্প এবং জনসংযোগকে সামনে রেখে নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছিল। অন্যদিকে বিজেপি পরিবর্তনের ডাক দিয়ে একাধিক কেন্দ্রে শক্তিশালী চ্যালেঞ্জ তৈরি করার চেষ্টা করে। ভোটের ফলাফলের প্রবণতা স্পষ্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূল শিবিরে আত্মবিশ্বাস বাড়তে থাকে, যদিও বিজেপিও একাধিক আসনে উল্লেখযোগ্য ভোট ধরে রেখে বিরোধী শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা চালায়।
ভোটগণনা কেন্দ্রগুলির বাইরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের নজরদারিতে গণনা প্রক্রিয়া চলছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও এজেন্টরা প্রতিটি রাউন্ডের ফলাফলের উপর কড়া নজর রাখছেন। চূড়ান্ত ফলাফলের আগে পর্যন্ত রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে। এই নির্বাচনের ফল শুধু পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী সরকারই নির্ধারণ করবে না, বরং রাজ্যের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশ এবং জাতীয় রাজনীতিতেও তার প্রভাব ফেলবে তা স্পষ্ট।