নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল; তীব্র দাবদাহে পুড়ছে আসানসোল। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। সকাল গড়াতেই রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বেরোতে চাইছেন না কেউ। প্রখর রোদ আর গরম হাওয়ায় কার্যত হাঁসফাঁস অবস্থা শিল্পাঞ্চল জুড়ে। ঠান্ডা পানীয়র দোকানে ভিড় জমাচ্ছে পথ চলতি মানুষ।
দুপুর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আসানসোল, বার্নপুর, কুলটি, রানিগঞ্জ-সহ বিভিন্ন এলাকায় জনজীবন কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়ছে। ব্যস্ত বাজার এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতেও অন্যদিনের তুলনায় মানুষের আনাগোনা অনেকটাই কম। রাস্তায় বের হওয়া পথচলতি মানুষদের অধিকাংশকেই মাথায় সাদা কাপড় বা গামছা জড়িয়ে গরম থেকে বাঁচার চেষ্টা করতে দেখা যাচ্ছে। অসহ্য গরমে স্বস্তি খুঁজতে ঠান্ডা পানীয়ের দোকানগুলিতে ভিড় বাড়ছে। বিশেষ করে আম পোড়া শরবতের চাহিদা বেড়েছে চোখে পড়ার মতো। রাস্তার ধারে ছোট ছোট শরবতের দোকানগুলিতে সকাল থেকেই ভিড় জমাচ্ছেন মানুষ। পোড়া কাঁচা আম, বিট নুন, চিনি এবং বরফ মিশিয়ে তৈরি এই ঐতিহ্যবাহী পানীয়ই এখন গরমে স্বস্তির অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছে শিল্পাঞ্চলের মানুষের কাছে।
চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের দাবদাহে শরীরে জলের ঘাটতি বেড়ে যায়। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণ জল পান করা, হালকা খাবার খাওয়া এবং খুব প্রয়োজন ছাড়া রোদে না বেরোনোর পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা। বিশেষ করে শিশু ও প্রবীণদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা নেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে। ফলে শিল্পাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ আপাতত কমার সম্ভাবনা নেই বলেই মনে করা হচ্ছে। তীব্র গরমের এই পরিস্থিতিতে এক গ্লাস ঠান্ডা আম পোড়া শরবতই যেন সাময়িক স্বস্তির ঠিকানা হয়ে উঠেছে আসানসোলবাসীর কাছে।