ওঙ্কার ডেস্ক: পিছিয়ে যেতে হবে ১৫ টা বছর। দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান হল। থেমে গেল রাইটার্স-এর টাইপের খটাখট শব্দ। মমতা বন্দোপাধ্যায় হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন মুখ্যমন্ত্রী। তারপর এল ২০২৬ সালের বিধান সভা নির্বাচন। বিজেপি এল ক্ষমতায়। মমতা বন্দোপাধ্যায় হয়ে গেলেন বিরোধী দলনেত্রি। বিরোধী হয়ে গেলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারন সম্পাদক অভিষেক বন্দোপাধ্যায়। প্রথম দফায় নির্বাচনের পর অনেকেই যখন শান্তিপূর্ণ ভোটের জন্য নির্বাচন কমিশনের তারিফ করছিলেন, তখনও আরামবাগে দাঁড়িয়ে হুঁশিয়ারি দিচ্ছিলেন অভিষেক। বলেছিলেন, ৪ মে বেলা ১২টার পর রবীন্দ্র সঙ্গীত নয়, ডিজে বাজবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদার হলেও তাঁর ব্যকরণ ভিন্ন। সোমবার দেখা গেল, সেই অভিষেককেই দেখে চোর চোর স্লোগান উঠছে। কেউ আবার থুতু ছিটিয়ে দেওয়ার (যা মোটেও সমর্থনযোগ্য নয়) চেষ্টা করছে। পুলিশে ঘেরা তাঁর বাসভবনের অনতিদূরে দখল হয়ে যাচ্ছে তৃণমূলের একের পর এক পার্টি অফিস। কৌতূহলের বিষয় হল, এই অভিষেক কি আর রাজনীতিতে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন?
কিছুদিন আগেই সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ মনে করছিলেন, এই রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসকে হারানো প্রায় অসম্ভব। কিন্তু তা ঘটে গেল এক বিকেলে। ম্যাজিক ফিগার ছিল ১৪৮ আচমকাই বিজেপি ২০৭ আসন পেয়ে ক্ষমতায় চলে এল। বিরোধী হয়ে গেলেন মমতা। পরিবর্তন হল বাংলায়। কথায় বলে রাজনীতি সম্ভাবনার খেলা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও যে সুযোগ ও সম্ভাবনার জমি পারিবারিক অধিকারে পেয়েছিলেন তা ছিল গঙ্গা অববাহিকার উর্বর পলিমাটির মতো। তাতে ভরপুর সার দেওয়া। পিসি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তখন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তাই জমিতে অবিরাম সেচের জলেরও খামতি নেই। অভিষেকের কথা যদি ভাবা হয় পিছিয়ে যেতে হবে বেশ কিছু বছর আগে। তবে হাতেখড়ির পিঁড়ি পেতেছিলেন মুকুল রায়। মুকুল তখন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। সেই সঙ্গে জাহাজ প্রতিমন্ত্রী। মুকুলের পরামর্শে তৃণমূলে তৈরি হয়েছিল নতুন সংগঠন ‘যুবা’। অভিষেককে করা হল যুব-র সভাপতি। সেই সময় আজকের পালাবদলের প্রধান মুখ ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনিই আজকে এগিয়ে রয়েছেন আগামী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে। তাৎপর্যপূর্ণ হল, অভিষেক যতদিন যুব-র সভাপতি ছিলেন, ততদিন যুব-র একাংশ নেতা যেন হাতির পাঁচ পা দেখেছিলেন। তাঁরা জেলায় জেলায় সরাসরি চ্যালেঞ্জ করতে শুরু করেছিলেন দলের মাদারের অর্থাৎ মূল সংগঠনের নেতাদের। তার মধ্যে কিম্বদন্তী ছিল কোচবিহারে রবীন্দ্রনাথ ঘোষের সঙ্গে নিশীথ প্রামানিকের লড়াই। কিন্তু অভিষেক দলের মূল সংগঠনের নেতা হতেই সেই যুব-ই যেন ক্রমশ দুর্বল হতে শুরু করে। দলের ছাত্র ও যুব দুটি সংগঠন থাকলেও এখন তারা প্রায় ফসিলে পরিণত। দুই সংগঠনেই গ্রহণযোগ্য বিশেষ মুখ নেই। লোকসভা ভোটের পর পরই সায়নী ঘোষকে যুব-র সভাপতি পদ থেকে সরাতে চেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছাত্র সংগঠনের মাথার জন্যও নতুন মুখ খুঁজছিলেন।
সেই দুর্দশার ছবিটা কতটা করুণ তা দল হাড়েহাড়ে বুঝতে পারে আরজি কর আন্দোলনের সময়ে। বাম ছাত্র সংগঠনের পাল্টা ন্যারেটিভ তৈরি করতে গিয়ে বার বার মুখ থুবড়ে পড়ে তৃণমূল। প্রশ্ন উঠতে পারে, আগামী দিনে তৃনমূলের যুব শক্তির মুখ হবে কে? কোনও ক্যারিস্মা ও ধোপে টেকেনি তৃণমূলের।