ওঙ্কার ডেস্ক: দু দফা মিলিয়ে রাজ্যে ৯২ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। যা কার্যত ভারতের নির্বাচনী ইতিহাসে রেকর্ড। ভূ ভারতে আর কোনও রাজ্যে অতীতে এমন বিপুল হারে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেনি মানুষ। তবে নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান বলছে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় ছাব্বিশের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা কমেছে প্রায় ৫১ লক্ষ। কিন্তু ভোটদান বেড়েছে প্রায় ৩০ লক্ষ।
অর্থাৎ ২০২১ সালের তুলনায় বঙ্গে ভোট পড়েছে ৩০ লক্ষেরও বেশি। এত ভোটার কী ভাবে বাড়ল? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন প্রক্রিয়া করার ফলে বহু মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এ বারের নির্বাচনে তাই নাগরিকত্ব হারানোর আশঙ্কায় অনেকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ভোটের ফলে রাজ্যে এই বিপুল মানুষের ভোটদান বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের। রাজনৈতিক মহলে একটি ধারণা প্রচলিত রয়েছে, যে বছর বিপুল হারে ভোট পড়ে তখন সরকার বদলের সম্ভাবনা তৈরি হয়। সেই যুক্তিতে অনেকে এ বছর সরকার বদলের সম্ভাবনার কথা বলছেন। যদিও তৃণমূল শিবিরের দাবি, নির্বাচন কমিশন বিজেপির সঙ্গে যোগসাজেশ করে মানুষের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার যে ষড়যন্ত্র করেছে তার প্রতিবাদে মানুষ এককাট্টা হয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
উল্লেখ্য, বুধবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় অর্থাৎ শেষ দফার ভোটগ্রহণ হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় বিভিন্ন সংস্থা নিজেদের বুথ ফেরত সমীক্ষা প্রকাশ করেছে। বেশিরভাগ সংস্থা বিজেপিকে এগিয়ে রেখেছে এই নির্বাচনে। পদ্ম শিবির বাংলায় ক্ষমতায় আসতে চলেছে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে দেশের নির্বাচনী ইতিহাস বলছে বুথ ফেরত সমীক্ষা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মেলে না। আবার কখনও সখনও মিলে যাওয়ার দৃষ্টান্তও রয়েছে। এই আবহে প্রকৃত ফল কী হয় তা জানা যাবে আগামী ৪ মে।