চোরবাগান ও বাঙালির দূর্গোৎসব
চোরবাগানের মর্মান্তিক বিপর্যয়ের পর কলকাতার দুর্গোৎসব নিয়ে এখন বেশকিছু প্রশ্ন সামনে এসেছে। অনেকেই বলছেন, প্রশাসন যতই নড়েচড়ে বসুক পুজোর উদ্যোক্তাদের মধ্যে সচেতনতা না জাগলে এই সমস্যা মিটবে না। এমন তো নয়, এইসব পুজো কমিটিতে অভিজ্ঞ মানুষের অভাব। যেমন চোরবাগান দুর্গোৎসব কমিটির কথাই ধরা যাক। এই পুজোর চেয়ারম্যান জোড়াসসাঁকোর বিজেপি বিধায়ক বিজয় ওঝা। কমিটিতে রয়েছেন উত্তর কলকাতা জেলা বিজেপি সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষও। এমন কি, এর সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর ভাইপোর যুক্ত থাকার বিষয়টিও সামনে এসেছে। তাহলে ? এঁদের তো দায়িত্বজ্ঞানহীন বলা যায় না। এঁরা জনপ্রতিনিধি, জনসংযোগে নিত্য সম্পৃক্ত। তাহলে কোথায় থেকে যাচ্ছে ফাঁকফোকর ? এমন ঘটনায় দায় যেমন এসে পড়ে প্রশাসনের উপর, পুলিশের উপর, তেমনি সমান ভাবে দায়ী উদ্যোক্তারা। কারণ, যে কোনো সর্বজনীন আয়োজন এই ত্রিধারার সম্মিলিত প্রয়াসেই সম্ভব। সবকিছু সাধারণ মানুষ কিংবা দৈব্যের হাতে ছেড়ে দিলে বিপর্যয় যে যে কোনো সময় এমন মর্মান্তিক হয়ে উঠতে পারে। চোরবাগানের ঘটনা ফের তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।
অথচ এতবড় দুর্ঘটনার আগে কলকাতা পুরসভার সহযোগিতায় রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ এবার ‘সেরার সেরা-৩’ দেবীদুর্গা সম্মান ২০২৬ দিয়ে পুরস্কৃত করেছিল এই দুর্গোৎসব কমিটিকে। সেরা আলোকসজ্জা, সেরা প্যান্ডেল এবং সেরা পরিবেশবান্ধব পূজার জন্যই ছিল এই পুরস্কার। শনিবারের বিপর্যয় কিছুটা ম্লান হতেই এই নিয়ে কথা উঠছে রাজনৈতিক স্তরে। সরব হয়েছে কালীঘাট তৃণমূলও। তাদের প্রশ্ন, জননিরাপত্তার চেয়ে কি জাঁকজমক বা প্রদর্শনীকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ? চোরবাগান বিপর্যয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সতর্ক করে দিয়েছেন, থিম পূজার নামে মণ্ডপগুলিতে যেন পর্যাপ্ত আলোর অভাব না থাকে। অথচ কলকাতা সহ সারারাজ্যের পুজো উদ্যোক্তারা দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে নানা ধরনের জমকালো থিম-ভিত্তিক মণ্ডপ ও শিল্পকর্ম তৈরির প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হন। এই সংস্কৃতি বদলাবে কবে ?