বর্ষাকালে বাগানে সবুজের সমারোহ বাড়ে। এই সময়ে কিছু ফুল ও শোভাবর্ধক গাছ লাগালে বাগান আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। তবে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে জল জমে গেলে গাছের শিকড় পচে যেতে পারে, তাই পরিচর্যায় বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি।
বর্ষাকালে বাগানের শোভা বাড়াতে পারে এমন গাছ
জবা — বর্ষায় ভালোভাবে বেড়ে ওঠে এবং নিয়মিত ফুল দেয়।
বোগেনভেলিয়া — রোদযুক্ত জায়গায় সুন্দর রঙিন ফুলে বাগান সাজায়।
গাঁদা — সহজে চাষ করা যায় এবং উজ্জ্বল ফুলে বাগানকে প্রাণবন্ত করে।
দোপাটি — বর্ষাকালের আর্দ্র পরিবেশে ভালো জন্মে এবং নানা রঙের ফুল ফোটে।
নয়নতারা — কম পরিচর্যাতেই টিকে থাকে এবং দীর্ঘ সময় ফুল দেয়।
কলাবতী — বড় ও আকর্ষণীয় ফুলের জন্য বাগানের সৌন্দর্য বাড়ায়।
কৃষ্ণচূড়া/রাধাচূড়া — পর্যাপ্ত জায়গা থাকলে বড় বাগানে ছায়া ও সৌন্দর্য দুটোই যোগ করে।
কাঠগোলাপ — সুগন্ধি ও সুন্দর ফুলের জন্য বিশেষ আকর্ষণীয়।
ফার্ন ও মানিপ্ল্যান্ট — স্যাঁতসেঁতে ও আংশিক ছায়াযুক্ত জায়গায় সবুজ সৌন্দর্য বাড়ায়।
বর্ষাকালে পরিচর্যা:
জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করুন — টব বা জমিতে যেন দীর্ঘ সময় জল না জমে থাকে। টবের নিচের ছিদ্র পরিষ্কার রাখুন।
অতিরিক্ত জল দেওয়া বন্ধ রাখুন — নিয়মিত বৃষ্টি হলে আলাদা করে জল দেওয়ার প্রয়োজন সাধারণত হয় না।
আগাছা পরিষ্কার করুন — বর্ষায় আগাছা দ্রুত বাড়ে। এগুলো তুলে ফেললে গাছ পর্যাপ্ত পুষ্টি পায়।
ডালপালা ছাঁটাই করুন — শুকনো, রোগাক্রান্ত বা দুর্বল ডাল কেটে দিন। এতে নতুন ডাল ও ফুলের বৃদ্ধি ভালো হয়।
সার প্রয়োগে সতর্ক থাকুন — অতিরিক্ত সার না দিয়ে গাছের প্রয়োজন অনুযায়ী জৈব সার বা কম্পোস্ট ব্যবহার করুন।
পোকামাকড় ও ছত্রাকের আক্রমণ দেখুন — পাতায় দাগ, পচন বা পোকা দেখা দিলে আক্রান্ত পাতা সরিয়ে ফেলুন এবং প্রয়োজনে উপযুক্ত জৈব কীটনাশক ব্যবহার করুন।
টবের অবস্থান ঠিক করুন — যেসব গাছ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না, সেগুলোকে অতিরিক্ত বৃষ্টির সময় ছাউনির নিচে বা উঁচু স্থানে রাখুন।
সারকথা: বর্ষাকালে পর্যাপ্ত আলো, ভালো জল নিষ্কাশন, পরিমিত সার এবং নিয়মিত আগাছা-পোকা নিয়ন্ত্রণ—এই চারটি বিষয় ঠিক রাখলে বাগান সবুজ ও ফুলে ভরা থাকবে।