শীতের সব ভালো। শীতে ঘুরতে ভালো খেতে ভালো। শীত মানেই হিমেল হাওয়া, কুয়াশার চাদর আর তার সঙ্গে রুক্ষ ত্বক। ঠোঁট ফাটা, হাত-পায়ের চামড়া খসখসে হয়ে যাওয়া, গোড়ালিতে ফাটল ধরা কিংবা মুখের ত্বকে টান ধরার মতো সমস্যা শীতকালে প্রায় ঘরে ঘরেই দেখা যায়। বিশেষ করে যাঁদের ত্বক স্বাভাবিকভাবেই শুষ্ক, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও বাড়তে পারে। তবে কিছু সহজ অভ্যাস এবং ঘরোয়া যত্নের মাধ্যমে ত্বকের শুষ্কতা অনেকটাই কমানো সম্ভব।প্রথমেই বুঝে নিন শীতকালে কেন ত্বক ফাটে? শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ কমে যায়। অতিরিক্ত গরম জলে স্নান করা, বারবার সাবান ব্যবহার করা এবং ত্বকে ময়েশ্চারাইজার না লাগানোর ফলেও ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। ত্বকের এই আর্দ্রতা কমে গেলে চামড়া টানটান লাগে, চুলকানি হয় এবং কোনও কোনও ক্ষেত্রে ত্বকে ফাটলও দেখা দেয়।
পাঁচটি সহজ টোটকা
১. নারকেল তেলে মিলতে পারে স্বস্তি
শীতকালে ত্বকের শুষ্কতা কমাতে নারকেল তেল একটি পরিচিত ঘরোয়া উপাদান। স্নানের পরে ত্বক সামান্য ভেজা থাকতেই অল্প নারকেল তেল লাগানো যেতে পারে। এতে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য হয়। বিশেষ করে হাত, পা, কনুই এবং হাঁটুর মতো শুষ্ক জায়গায় এটি ব্যবহার করা যায়। তবে যাঁদের নারকেল তেলে অ্যালার্জি হয় বা মুখে ব্রণ বাড়ে, তাঁদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
২. ভ্যাসলিন হতে পারে ফাটা ত্বকের বন্ধু
ফাটা গোড়ালি, শুষ্ক হাত কিংবা ঠোঁটের যত্নে পেট্রোলিয়াম জেলি বা ভ্যাসলিন কার্যকর হতে পারে। রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে পা পরিষ্কার করে শুকিয়ে গোড়ালিতে ভ্যাসলিন লাগিয়ে সুতির মোজা পরে নেওয়া যায়। এতে ত্বকের আর্দ্রতা আটকে থাকে এবং ফাটল সারতে সাহায্য করে। ঠোঁটের ক্ষেত্রেও সুগন্ধিবিহীন পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করা যেতে পারে।
৩. মধু ও ওটসের ব্যবহার
মধু ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। অন্যদিকে, মিহি ওটস ত্বকের অস্বস্তি ও চুলকানি প্রশমনে সহায়ক হতে পারে। সামান্য জলে তৈরি ওটসের নরম পেস্ট ত্বকে অল্প সময় লাগিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলা যায়। তবে মধু বা অন্য কোনও উপাদান ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। লেবুর রস, বেকিং সোডা কিংবা শক্ত দানাযুক্ত স্ক্রাব শুষ্ক ত্বকে ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ এগুলি ত্বকে জ্বালা বাড়াতে পারে।
৪. অতিরিক্ত গরম জলের বদলে হালকা গরম জলে স্নান
শীতকালে অনেকেই খুব গরম জলে স্নান করতে ভালোবাসেন। কিন্তু অতিরিক্ত গরম জল ত্বকের শুষ্কতা বাড়াতে পারে। তাই ঈষদুষ্ণ জলে পাঁচ থেকে দশ মিনিটের মধ্যে স্নান শেষ করা ভালো। স্নানের পরে তোয়ালে দিয়ে ত্বক ঘষে না মুছে আলতো করে জল শুষে নিতে হবে। এরপর তিন মিনিটের মধ্যে ময়েশ্চারাইজার লাগালে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সুবিধা হয়।
৫. ময়েশ্চারাইজার ও পর্যাপ্ত জলপান
শীতকালে ত্বকের যত্নে নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্লিসারিন, সেরামাইড বা হায়ালুরোনিক অ্যাসিডযুক্ত ময়েশ্চারাইজার শুষ্ক ত্বকের জন্য উপকারী হতে পারে। হাত ধোয়ার পর এবং স্নানের পর ময়েশ্চারাইজার লাগানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত জল পান করা দরকার। যদিও শুধু জল পান করলেই ত্বকের শুষ্কতা দূর হয় না, শরীরকে স্বাভাবিকভাবে আর্দ্র রাখতে এটি গুরুত্বপূর্ণ। এই পদ্ধতিগুলি দশকের পর দশক ধরে সাধারণ ঘরে ব্যবহার হয়ে আসছে। তবে ত্বক ফাটার সমস্যা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে, তীব্র চুলকানি হলে, রক্তপাত দেখা দিলে কিংবা ফাটল থেকে পুঁজ বা সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পায়ের ফাটল অবহেলা করা উচিত নয়। গভীর ফাটলে নিজে থেকে অ্যাসিডযুক্ত ক্রিম বা শক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করাও বিপজ্জনক হতে পারে।