শীতকাল সবজি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী একটি ঋতু। কিন্তু বর্তমানে শহর ও শহরতলির বহু মানুষের বাড়িতে বড় জমি নেই। ফ্ল্যাটের বারান্দা, ঊছাদ, জানলার ধারে কিংবা বাড়ির সামান্য ফাঁকা জায়গাতেও পরিকল্পনা করে শীতকালীন সবজি চাষ করা সম্ভব।
কম জায়গায় শীতকালীন সবজি চাষের ক্ষেত্রে প্রথমেই এমন সবজি বেছে নিতে হবে যেগুলি বেশি জায়গা দখল করে না এবং টব বা পাত্রে ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে। মুলো এ ক্ষেত্রে খুব ভালো একটি ফসল। তুলনামূলক অল্প সময়ে মুলা তোলা যায় এবং গভীর টবে সহজেই চাষ করা সম্ভব।
গাজর চাষের জন্যও গভীর পাত্র ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে মাটি ঝুরঝুরে হতে হবে, যাতে গাজরের মূল সহজে নিচের দিকে বাড়তে পারে। একইভাবে বিট চাষও টব বা গ্রো ব্যাগে করা সম্ভব।
শীতকালে কম জায়গার জন্য ধনেপাতা, পালং শাক, মেথি শাক এবং সরষে শাক বিশেষ উপযোগী। এগুলির জন্য খুব বড় পাত্রের প্রয়োজন হয় না। অল্প মাটিতেই বীজ ছড়িয়ে দিয়ে চাষ করা যায়। কিছুদিন পর পর প্রয়োজন অনুযায়ী পাতা তুলে ব্যবহার করলে দীর্ঘদিন তাজা শাক পাওয়া যায়।
লেটুস ও বিভিন্ন ধরনের পাতাজাতীয় সবজিও বারান্দা বা ছাদে চাষ করা যায়। ছোট টব বা ট্রেতে এগুলি ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। একই সঙ্গে পেঁয়াজের পাতা চাষ করাও সহজ। পুরনো পাত্রে পেঁয়াজের গোড়া লাগিয়ে নিয়মিত পাতা সংগ্রহ করা যায়।
কম জায়গায় টমেটো চাষের জন্য তুলনামূলক বড় টব ব্যবহার করতে হবে। গাছকে খুঁটি বা জালের সাহায্যে উপরের দিকে বাড়তে দিলে মাটিতে বেশি জায়গা লাগে না। একইভাবে ছোট জাতের লঙ্কা গাছ টবে বেশ ভালো হয়। একটি সুস্থ লঙ্কা গাছ থেকেই দীর্ঘ সময় ধরে লঙ্কা পাওয়া যেতে পারে।
বেগুন ও ফুলকপি-ও বড় গ্রো ব্যাগ বা টবে চাষ করা যায়, যদিও এগুলির জন্য অন্য পাতা জাতীয় সবজির তুলনায় একটু বেশি জায়গা প্রয়োজন। তাই ছোট জায়গায় চাষের ক্ষেত্রে গাছের আকার এবং পাত্রের আয়তন বুঝে পরিকল্পনা করা জরুরি।
অল্প জায়গায় সফল সবজি চাষের জন্য মাটি তৈরিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ মাটির সঙ্গে পচা গোবর বা ভার্মিকম্পোস্ট, কোকোপিট এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বালি বা অন্য জল নিষ্কাশনকারী উপাদান মেশানো যেতে পারে। পাত্রের নিচে অবশ্যই জল বের হওয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে। জল জমে থাকলে শিকড় পচে যেতে পারে।
শীতকালীন সবজির অধিকাংশ গাছের জন্য প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা ভালো সূর্যালোক প্রয়োজন। তাই বারান্দা বা ছাদের এমন জায়গা বেছে নিতে হবে যেখানে পর্যাপ্ত আলো পাওয়া যায়। মাটি শুকিয়ে গেলে প্রয়োজনমতো জল দিতে হবে, কিন্তু অতিরিক্ত জল দেওয়া উচিত নয়।
পোকার আক্রমণ থেকে গাছকে রক্ষা করার জন্য প্রথমে নিয়মিত পাতা ও কচি ডগা পরীক্ষা করা উচিত। জাবপোকা বা অন্য ছোট পোকা দেখা দিলে আক্রান্ত অংশ সরিয়ে ফেলা যায়। প্রয়োজন হলে উপযুক্ত জৈব বা অনুমোদিত কীটনাশক লেবেলের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবহার করা যেতে পারে।