ওঙ্কার ডেস্ক: চলতি বছরের প্রথম দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চিনের বিরুদ্ধে শুল্ক যুদ্ধের ঘোষণা করেছিলেন। সেই সময় চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। যে চিঠির মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে তিনি সম্পর্ক মেরামতির চেষ্টা করেছিলেন, ব্লুমবার্গের একটি রিপোর্টে এই দাবি করা হয়েছে।
এক ভারতীয় আধিকারিকের কথা উল্লেখ করে রিপোর্টে বলা হয়েছে, চিনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্নির্মাণের জন্য ভারতের ইচ্ছা যাচাই করার জন্য শি জিনপিং চিঠিটি পাঠিয়েছিলেন। চিঠিটি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে পাঠানো হলেও সেই বার্তাটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, বেজিংয়ের স্বার্থের বিরুদ্ধে যেতে পারে এমন যে কোনও সম্ভাব্য মার্কিন-ভারত চুক্তি সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেন শি জিনপিং।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্পের শুল্ক হুমকির আবহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারত আলোচনা শুরু করে। জম্মুকাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যুর পর নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদের মধ্যে তীব্র আঞ্চলিক সংঘাত তৈরি হয়েছিল। সেই উত্তেজনার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করেছিলেন বলে দাবি করেছিলেন ট্রাম্প। সেই আবহে গত জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সরকার চিনা যোগাযোগকে গুরুত্ব সহকারে নিতে শুরু করে। ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের ফলে ভারত ও চিন উভয়ই ২০২০ সালের সীমান্ত সংঘাতের বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, দীর্ঘ দিনের সীমান্ত বিরোধ নিয়ে আলোচনা পুনরায় চালু করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, দ্বিতীয় বার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার মধ্যে রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পণ্যে শুল্ক আরোপ। ওয়াশিংটনের সর্ব শেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভারতের পণ্যে ৫০ শতাংশ হারে শুল্ক চাপানো হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে ভারতের বাণিজ্যে যেমন প্রভাব পড়ছে তেমন মার্কিন বাজারেও প্রভাব পড়বে বলে মত বাজার পর্যবেক্ষকদের। ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতির কারণে ভারতে ‘পূর্বে তাকানোর’ উপর জোর দিচ্ছে।
