স্পোর্টস রিপোর্টার : যুবচারতী কাণ্ডে ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে চাইছেন অরূপ বিশ্বাস। এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়ে অরূপ জানান, “মেসি ঘটনায় তদন্ত চলছে তাই নিরপেক্ষ তদন্তর জন্য তিনি অবেহতি চান।“
জানা গেছে, ক্রীড়ামন্ত্রীর এই ইস্তফাপত্র অনুমোদন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু প্রশ্ন, কে হবেন এখন পরবর্তী ক্রীড়ামন্ত্রী ! অরূপ বিশ্বাসের মত ময়দানের সঙ্গে যোগাযোগ আছে দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুর কিন্তু নানা ভাবে তিনিও যুবভারতী কাণ্ডে সমালোচনার মুখে। কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে, প্রাক্তন ক্রীড়া মন্ত্রী মদন মিত্রকে ফের ক্রীড়া মন্ত্রী করা হতে পারে। অথবা মুখ্যমন্ত্রী নিজের এক্তিয়ারে এই দফতর রাখতে পারেন।
২০১৪ সালের পরে অরূপই ক্রীড়ামন্ত্রীর দায়িত্ব সামলে আসছিলেন। কিন্তু মেসি কাণ্ডে তাঁর উপস্থিতি ও আচরণ নিয়ে বিতর্কের ঝড় ওঠে। মেসিকে যুবভারতীতে জড়িয়ে ধরা থেকে শুরু করে নানা বিষয়ে সমালোচনার মুখে পড়তে হয় অরূপকে। দলের ভিতরে ও বাইরেও প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েন।
শনিবার সকাল ১১টার কিছু পর যুবভারতীতে পৌঁছন ‘ফুটবলের ভগবান’ লিওনেল মেসি। যেমন কথা ছিল, সেভাবেই মাঠ প্রদক্ষিণ করতে শুরু করেন তিনি। কিন্তু তখন অরূপ বিশ্বাস সহ তাঁর পরিচিত ও শতাধিক অন্যান্য ব্যক্তি মেসিকে এমন ভাবে ঘিরে রাখেন দর্শকরা দেখতে পাননি মেসিকে। হাজার হাজার টাকার টিকিট কেটে যুবভারতীতে আসা দর্শকের মধ্যে ক্ষোভের প্রকাশ এখান থেকেই। অথচ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নজর না দিয়ে অরূপ মেতেছিলেন মেসিসঙ্গে। ঠিক সেই সময় দর্শকাসন থেকে বোতল ছোড় শুরু হয়।
পরিস্থিতি এমন হয় যে মাঠ থেকে মেসিকে বের করে নিয়ে যেতে হয়। সময়ের অনেক আগেই বেরিয়ে যান মেসি। কার্যত দর্শকরা মেসিকেই দেখতে পাননি। এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন দর্শকরা, চলে ভাঙচুর। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও মাঝপথ থেকে গাড়ি ঘুরিয়ে ফিরে যান। এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অরূপ বিশ্বাস বলেন, “সরকার ইতিমধ্যেই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। যতক্ষণ তদন্ত চলছে, ততক্ষণ কোনও মন্তব্য করব না।”
