নিজস্ব সংবাদদাতা : যুবভারতীতে চরম বিশৃঙ্খলার মামলায় ধৃত মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজত দিল বিধাননগর আদালত। একাধিক ধারায় পুলিশের আনা একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলায় রবিবার শতদ্রুকে বিধাননগর মহকুমা আদালতে তোলা হয়।
প্রসঙ্গত, মেসির কলকাতা সফরের সময় শনিবার সল্টলেকের যুবভারতীতে মেসিকে নিয়ে বেসরকারি উদ্যোগে আয়োজিত শো-কে ঘিরে রণক্ষেত্রের আকার নেয়। উদ্যোক্তাদের বিশৃঙ্খল উপস্থাপনার জেরে ব্যাপক ভাঙচুর, অশান্তি আর হিংসাত্মক ঘটনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় দ্রুত পদক্ষেপ করে বিধাননগর কমিশনারেট।
মেসিকে কলকাতায় আনার ওই উদ্যোগে মূল আয়োজক ছিলেন শতদ্রু দত্ত। তাই যুবভারতী কাণ্ডের দায়ে শতদ্রুকে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে অশান্তি সৃষ্টি, ভাঙচুর, হিংসা ছড়ানো, নাশকতামূলক কার্যকলাপ এবং জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) ১৯২, ৩২৪ (৪)(৫), ৩২৬ (৫), ১৩২, ১২১ (২), ৪৫ ও ৪৬ ধারায় মামলা দায়ের করে পুলিশ। এই সব ধারাতেই বিস্তারিত তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। সে কারণেই শতদ্রুর পুলিশি হেফাজত চাওয়া হয়।
আদালতে দাঁড়িয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে শতদ্রু জানান, তিনি কোনও সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করেননি। মাঠে কী হয়েছে, সেই দায় তাঁর নয়। একই সঙ্গে ওই আইনজীবী তাঁর মক্কেলের জামিনেরও আবেদন করেন। তখন সরকারি আইনজীবী পাল্টা সওয়াল করেন। তিনি জানান, মেসির সামনে কে যাবেন, কে যাবেন না তাঁর দায়িত্ব আয়োজকেরই। প্রসঙ্গত, মেসিকে ঘিরে থাকা ভিআইপি ও উদ্যোক্তাদের স্বজন বৃত্তে ঢাকা পড়ে গিয়েছিলেন মেসি। যার ফলে মেসিকে দেখতে পাননি হাজার হাজার টাকার টিকিট কেটে যুবভারতীতে আসা দর্শকরা। এখান থেকেই অশান্তির সূত্রপাত। তা ক্রমেই অগ্নিগর্ভ আকার নেয়।
এদিন বিধাননগর মহকুমা আদালতে হাজির হয়ে শতদ্রু আইনজীবীর মাধ্যমে বলেন যে এই ঘটনায় তাঁর এতদিনের খ্যাতি নষ্ট হয়েছে। কিন্তু তাঁর কি কোনো দোষ আছে ? তিনি কোনও সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করেননি। অথচ তাঁর বিরুদ্ধে মেনটেন্যান্স অফ পাবলিক অর্ডার আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। আদালতে এই নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তাঁর আইনজীবী। আইনজীবীর মাধ্যমে শতদ্রু আদলতকে বলেন, ‘আমি এক জনকে নিয়ে এসেছি, যিনি শিক্ষা দেবেন। বাচ্চাদের দেখাবেন। স্টেডিয়ামে কী হয়েছে, তার জন্য আমার বিরুদ্ধে কেন মামলা হবে ? কেন ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজত চাওয়া হচ্ছে ?’’
সরকারি আইনজীবী অমিতাভ লালা শতদ্রুর এই দাবির বিরুদ্ধে সাওয়াল করেন। তিনি বলেন, ‘‘তদন্তে উঠে এসেছে, অন্যদের সঙ্গেও একই কাজ করেছেন ধৃত। মেসির সামনে কে যাবেন, কে যাবেন না, তার দায়িত্ব আয়োজকেরই। তিনি নিজের লোকদের নিয়ে এমন ঘিরে ছিলেন, যে বাকি লোকেরা মেসিকে দেখতে পাননি।’’
শনিবার যুবভারতীর পরিস্থিতি তুলে ধরে সরকারি আইনজীবী এদিন আদালতে বলেন, ‘‘মেসি যখন মাঠে প্রবেশ করেন, তখন এ দিক থেকে ও দিকে যাওয়া-আসা করছিল লোকজন। দর্শকেরা মাঠ থেকে মেসিকে দেখতে পাননি।’’ সরকারি আইনজীবী ১০টি কারণে শতদ্রুকে পুলিশে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানান। সেই আবেদন মঞ্জুর করেন বিচারক।
