ওঙ্কার ডেস্ক: ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক যে চরম উত্তেজনার পর্যায়ে পৌঁছেছে, তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন ভারত, পাকিস্তান এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মোট ১১৭ জন বিশিষ্ট নাগরিক। তাঁদের বক্তব্য, সামরিক সংঘাত কোনও সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। বরং দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ, কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠনই দক্ষিণ এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র কার্যকর পথ।
চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন কূটনীতিক, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, শিক্ষাবিদ, মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক, শিল্পী, সাহিত্যিক, সমাজকর্মী এবং শান্তি-আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি। তাঁদের মতে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বৈরিতার ফলে শুধু দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে সীমান্তবর্তী অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবন, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের উপরও।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর সীমান্ত পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় যুদ্ধের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল। যদিও পরবর্তীকালে সংঘাত প্রশমনের লক্ষ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, তবুও পরিস্থিতি এখনও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক নয়। এই অবস্থায় উভয় দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের উচিত দায়িত্বশীল ভূমিকা গ্রহণ করে উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ নেওয়া।
স্বাক্ষরকারীরা মনে করেন, পরমাণু অস্ত্রধারী দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে যে কোনও ধরনের সামরিক সংঘাত গোটা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তার জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হতে পারে। যুদ্ধ কিংবা পাল্টা সামরিক অভিযান কখনও স্থায়ী শান্তি এনে দিতে পারে না। বরং সংলাপের পথ বন্ধ হয়ে গেলে ভুল বোঝাবুঝি আরও বাড়ে এবং সংঘাতের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। চিঠিতে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সংলাপ পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তে উত্তেজনা কমাতে সামরিক পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা, কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করা এবং পারস্পরিক বিশ্বাস পুনর্গঠনের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে।
চিঠির শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, তাঁরা যেন রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রদর্শন করে নতুন করে শান্তি প্রক্রিয়া শুরু করেন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নের স্বার্থে সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনাকেই অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এই ১১৭ জন বিশিষ্ট নাগরিক। তাঁদের মতে, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, পারস্পরিক সম্মান এবং ধারাবাহিক সংলাপই ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ককে নতুন পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে এবং দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে স্থিতিশীল ও নিরাপদ ভবিষ্যতের ভিত্তি গড়ে তুলতে সক্ষম।