ওঙ্কার ডেস্ক: দীপাবলি উদযাপনের সময় মধ্যপ্রদেশের বিভিন্ন জেলায় ‘কার্বাইড গান’ নামের বিপজ্জনক বাজি নিয়ে খেলতে গিয়ে ১৪ জন শিশু স্থায়ীভাবে নিজেদের দৃষ্টি হারিয়েছে। ১২২-এরও বেশি শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সবচেয়ে গুরুতর পরিস্থিতি দেখা গেছে বিদিশা জেলায়। সেখানে সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি থাকা সত্ত্বেও ১৮ অক্টোবরের পরও এই বাজি বিক্রি হচ্ছিল বলে অভিযোগ।
প্রসঙ্গত এই ‘কার্বাইড গান’ দেখতে খেলনার মতো হলেও এতে থাকা ক্যালসিয়াম কার্বাইডের সঙ্গে জল মেশালে অ্যাসিটিলিন গ্যাস তৈরি হয়, যা বিস্ফোরণ ঘটায়। ঘটনায় পীড়িত শিশুরা জানিয়েছেন, এই কার্বাইড গান কিনে খেলতে গিয়ে হঠাৎ সেটা ফেটে যায়। তাতে চোখ পুড়ে গেছে অনেকের। এক শিশু বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও দেখে ঘরে বানাতে গিয়েছিল সে। মুখের সামনে ফেটে গেছে গানটি। তারপর থেকেই আর চোখে দেখতে পাচ্ছে না সে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণে চোখের পিউপিল ফেটে যায়, কর্নিয়া ও রেটিনা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ধাতব অংশ চোখের মধ্যে ঢুকে স্থায়ীভাবে দৃষ্টি হারানোর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আহতদের জন্য রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে।
স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যেই এই বিপজ্জনক বাজি বিক্রি করায় ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে এবং বাজার থেকে প্রচুর কার্বাইড গান বাজি বাজেয়াপ্ত করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ ধরনের বাজি তৈরি ও বিক্রির ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুর্ঘটনাটির নেপথ্যে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবও দেখা গিয়েছে, যেখানে ভিডিও চ্যালেঞ্জ ও ট্রেন্ড শিশুদের মধ্যে এই বিপজ্জনক কাজ করার প্ররোচনা দিচ্ছে। বাচ্চারা মোবাইল ফোনে সেইসব ভিডিও দেখে নিজেরাই কার্বাইড গান বানাতে গিয়ে বিপত্তি ডেকে আনছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবারের সচেতনতা বৃদ্ধি, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং অনলাইন দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা না হলে ভবিষ্যতে আরও এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
