ওঙ্কার ডেস্ক ; মার্কিন সামরিক অবরোধ সত্ত্বেও, সোমবার অন্তত দুটি জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। মঙ্গলবার একটি সামুদ্রিক ট্র্যাকিং সংস্থা কেপলারের তথ্য থেকে এমনটাই জানা গেছে। লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী বাল্ক ক্যারিয়ার ‘ক্রিস্টিয়ানা’ ইরানের বন্দর ইমাম খোমেনি বন্দরে ভুট্টা নামিয়ে আন্তর্জাতিক বিবাদের নিরিখে বিপদসঙ্কুল এই প্রণালীটি পেরিয়ে যায়। জানা গেছে, সোমবার প্রায় ১৬০০ জিএমটি-তে ইরানের লারাক দ্বীপ পার হয়, যা ছিল মার্কিন অবরোধ কার্যকর হওয়ার দুই ঘণ্টা পর।
ওই তথ্য থেকে আরও জানা গেছে, দ্বিতীয় জাহাজটি, কমোরোসের পতাকাবাহী ট্যাংকার ‘এলপিস’, প্রায় ১১০০ জিএমটি-তে লারাক দ্বীপের কাছে ছিল এবং প্রায় ১৬০০ জিএমটি-তে প্রণালীটি অতিক্রম করে। জাহাজটিতে ছিল ৩১,০০০ টন মিথানল। এটি ৩১ মার্চ ইরানের বুশেহর বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল।
এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছিল, তাদের এই অবরোধের লক্ষ্য হবে “ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশকারী বা সেখান থেকে প্রস্থানকারী সকল দেশের জাহাজ”।
রিচ স্টারি নামের একটি চীনা ট্যাংকারও সোমবার থেকে মঙ্গলবার রাতের মধ্যে লারাক দ্বীপের দক্ষিণে ইরান-অনুমোদিত যাচাই-বাছাই পথ দিয়ে প্রণালীটি অতিক্রম করে। কেপলার জানিয়েছে, জাহাজটির ট্রান্সপন্ডার থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেটি ৩১,৫০০ টন মিথানল নিয়ে ওমানের সোহারের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল।
শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় জাহাজ প্রবেশ বা প্রস্থানে অবরোধের নির্দেশ দেন। তিনি সতর্ক করে দিয়েছিলেন, এই অবরোধ অমান্যকারী যেকোনো ইরানি আক্রমণকারী নৌকা ধ্বংস করে দেওয়া হবে। এই অবরোধ সোমবার জিএমটি ১৪০০ ঘটিকায় কার্যকর হয়। যদিও এর কয়েকদিন আগেই আমেরিকা ও ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকায় মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান ও উপসাগরীয় রাষ্ট্র কাতার তা মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে আসছিল। ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল-এ একটি পোস্টে লিখেছেন, “অবিলম্বে কার্যকরভাবে, বিশ্বের সেরা মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশ বা প্রস্থানের চেষ্টাকারী যেকোনো জাহাজকে অবরোধ করার প্রক্রিয়া শুরু করবে।”
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই অবরোধ কার্যকর করতে মার্কিন নৌবাহিনীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ সম্পদের প্রয়োজন হতে পারে। একইসঙ্গে এই সিদ্ধান্ত সামরিক শক্তি ও আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে, সরবরাহ শৃঙ্খল বিশ্লেষকরা জোর দিয়ে বলেছেন যে, এই বিধিনিষেধগুলো তেল, সার, খাদ্য এবং অন্যান্য পণ্যের প্রবাহকে ব্যাহত করতে পারে।