ওঙ্কার ডেস্ক: ২০২৬ এর বাংলায় বিধানসভার নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের কর্মসূচী সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন বা এসআইআর এর দিনক্ষন ঘোষাণা হওয়ার পর থেকেই আতঙ্কে বহু মানুষ আত্মঘাতী হচ্ছে বলে দাবি করে এসেছে বাংলার শাসক দল। এবার হাওড়ার উলুবেড়িয়ায় এক ঠিকা কর্মীর মৃত্যুতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিবারের দাবি তিনি নাকি এসআইআর আতঙ্কেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
সুত্রের খবর, খলিসানি গ্রাম পঞ্চায়েতের এক দিনমজুর যুবক, জাহির মাল, বাড়ির ভেতর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হন। পরিবারের দাবি, গত কয়েক দিন ধরে জাহির মানসিকভাবে ভীষণ চাপে ছিলেন। এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে তাঁর মনে ভয় কাজ করছিল। আশঙ্কা করছিলেন, এই প্রক্রিয়ার কারণে তাঁকে বা তাঁর পরিবারকে ‘বহিরাগত’ বলে চিহ্নিত করা হতে পারে কিংবা ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ে যেতে পারে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, কয়েক দিন ধরে জাহির অস্বাভাবিকভাবে চুপচাপ ছিলেন। স্ত্রী রেজিনা বিবি বলেন, “ও বারবার বলছিল, এখন যদি নাম কেটে দেয়, তবে কোথায় যাব? মানুষ বলছে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেবে।” এই কথাগুলিই তাঁকে ভিতরে ভিতরে ভেঙে দিচ্ছিল বলে পরিবারের ধারণা। সোমবার সকালে তাঁকে ঘরের ভেতর ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের লোকজন। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় পুলিশে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে কোনও সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়নি। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলেই মনে করা হচ্ছে। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে অভিযোগ, এই আত্মহত্যার পেছনে সরাসরি দায়ী এস আই আর। তাঁদের দাবি, “ভোটার তালিকা যাচাইয়ের নামে মানুষের মধ্যে এমন ভয় সৃষ্টি করা হচ্ছে যে সাধারণ নাগরিকরাও মানসিক চাপে পড়ছেন। এই মৃত্যুই তার করুণ প্রমাণ।”
ঘটনার পর তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব জাহিরের বাড়িতে যান। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে দলের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়। রাজ্য তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশ বলেছেন, “মানুষকে আতঙ্কিত করে গণতন্ত্রকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। এই ঘটনা তারই ফল।” অন্যদিকে বিজেপির অভিযোগ, “রাজনৈতিক ভাবে মাইলেজ পেতেই তৃণমূল এমন দাবি করছে। কমিশনের স্বচ্ছ প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক রঙ দেওয়া হচ্ছে।”
নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, এসআাআর হল সম্পূর্ণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, যার উদ্দেশ্য শুধু তথ্য যাচাই ও তালিকা হালনাগাদ করা। কোনও নাগরিকের ভোটাধিকার খর্ব করা বা তাঁকে ‘বহিরাগত’ হিসেবে দেখানো এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য নয়। তবে রাজ্যে সম্প্রতি এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।
