ওঙ্কার ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে আয়োজিত প্রাতরাশ বৈঠকে যোগ দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের তিন মুসলিম সাংসদ। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আবু তাহের খান, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পাঠান। প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে তিন সাংসদের এই সাক্ষাৎকে ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সম্প্রতি তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানা জল্পনার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একই টেবিলে তাঁদের উপস্থিতি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এর আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছিলেন ওই তিন সাংসদ। সেই বৈঠকে মূলত ভোটার তালিকা সংক্রান্ত সমস্যা এবং মসজিদের লাউডস্পিকার ব্যবহারের বিষয়ে তাঁদের উদ্বেগের কথা জানানো হয় বলে জানা গিয়েছে। বিশেষ করে ভোটার তালিকা সংশোধনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন মামলা দীর্ঘদিন ধরে ট্রাইব্যুনালে পড়ে থাকা নিয়ে তাঁরা কেন্দ্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সাংসদদের বক্তব্য অনুযায়ী, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার পর অনেক প্রকৃত ভোটারকে নানা ধরনের প্রশাসনিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলি দ্রুত নিষ্পত্তি না হওয়ায় পাসপোর্ট যাচাই, জমি রেজিস্ট্রি-সহ বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ। তাই ট্রাইব্যুনালে জমে থাকা মামলাগুলি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার আবেদন জানানো হয়েছে। এর পাশাপাশি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে লাউডস্পিকার ব্যবহারের বিষয়টিও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন সাংসদরা। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আইন এবং আদালতের নির্দেশ মেনে চলার প্রয়োজনীয়তা তাঁরা স্বীকার করলেও, সেই নিয়ম যেন কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে প্রয়োগ না হয়, সেই বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয় বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত এবং ধর্মীয় সংবেদনশীলতার বিষয়টিও প্রশাসনকে বিবেচনায় রাখতে হবে।
প্রসঙ্গত বাংলায় ছাব্বিশের নির্বাচনের পর তৃণমূল থেকে পদত্যাগ করে অসমের এক বেনামী রাজনৈতিক দলে নাম লেখান কাকলী ঘোষদস্তিদার সহ আরও ২০ জন সাংসদ। তৃণমূলের হাত ছেড়ে লোকসভার সাংসদেরা এনডিএ-এর শরীক দল ন্যাশেনাল সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়াতে যোগদান করেন। যাঁদের মধ্যে তিন জন সংখ্যালঘু সাংসদীর বিজেপির সঙ্গে এক মঞ্চে অবস্থান নিয়ে জোড় জল্পনা ছিল। আগে সাংসদ ইউসুফ পাঠানকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জানান, তারা এনসিপিআই-এর সঙ্গে যুক্ত বিজেপির সঙ্গে নয়। তিনি এও জানান দেশের প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রন আসলে তা কখনই উপেক্ষা করবেন না তিনি। শুক্রবার সকালে সেই কথায় প্রমাণ করলেন তিন সাংসদ।