দেবাঞ্জলী কুণ্ডু চৌধুরী, কলকাতা: আজ যেমন কর্মব্যস্ত সপ্তাহের প্রথম দিন, সোমবার, তেমনই আজ শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবারও। ভোলে বাবাকে সিক্ত করতে তাই প্রকৃতিও যেন মরিয়া হয়ে উঠেছে।
সকালে ঘুম থেকে উঠে বোঝার উপায় নেই এটা সকাল নাকি সন্ধ্যে নামছে! চারিদিক অন্ধকারাচ্ছন্ন। একটা কেমন যেন সিক্ত অলস দিনের সূচনা। ফিরে যেতে ইচ্ছা করে ছোটবেলায়, যখন এমন আবহাওয়ায় স্কুলে rainy day বলে একটা ছুটি পাওয়া যেত। তারপর বাড়ি ফিরে দুপুরে গরম গরম খিচুড়ি সাথে নানা রকম ভাজাভুজি।
কিন্তু এখন এই কর্মব্যস্ত জীবনে সেই rainy day বলে তো কিছু হয় না। তাই মন না চাইলেও পিঠে ঝোলা ঝুলিয়ে কর্মক্ষেত্রে যেতেই হবে।
যাই হোক, এবার চলুন জেনে নেওয়া যাক, এমন মন খারাপের বৃষ্টির দিন আর কতদিন থাকবে। কি-ই বা বলছে আবহাওয়া দফতর।
আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, উত্তর ও পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে। যার প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশা উপকূলে একটা নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হয়েছে। সেটি আরও শক্তি বাড়িয়ে উত্তর ও পশ্চিম দিকে সরে যাবে। এর ফলে আজ থেকে আগামী বেশ কিছুদিন ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হবে দক্ষিণবঙ্গে। এমনকী এই বৃষ্টির হাত থেকে রেহাই পাবে না উত্তরবঙ্গও।
সোমবার কলকাতায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু কলকাতা নয়, দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। হাওড়া, হুগলি, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব মেদিনীপুর, উত্তর ২৪ পরগনা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় অতিভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। সেই সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে ৪০ থেকে ৫০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ফলে এইসব জায়গায় জারি করা হয়েছে হলুদ সতর্কতা। পাশাপাশি পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম ও বাঁকুড়া এই তিন জেলায় ভারী বৃষ্টির জন্য লাল সতর্কতা জারি করেছে হাওয়া অফিস।
আজ উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলাতেও ভালোই বৃষ্টি হবে। জলপাইগুড়ি ও কালিম্পঙে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি মঙ্গলবার দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
সক্রিয় নিম্নচাপের জেরে উত্তাল থাকবে সমুদ্র। তাই মৎস্যজীবীদের আজ সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন।