ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ঘিরে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিল এক মর্মান্তিক ঘটনা। রাজ্যের সাতনা জেলার একটি সরকারি হাসপাতালে রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে পাঁচজন শিশুর শরীরে এইচআইভি সংক্রমণের ঘটনা সামনে এসেছে। আক্রান্ত সবকটি শিশুই থ্যালাসেমিয়ায় ভুগছিল এবং বেঁচে থাকার জন্য নিয়মিত রক্ত সঞ্চালনের উপর নির্ভরশীল ছিল। স্বাস্থ্য দফতরের প্রাথমিক তদন্তে স্পষ্ট হয়েছে, রক্ত সঞ্চালনের সময় প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ও পরীক্ষার বিধি যথাযথভাবে মানা হয়নি, সেই কারনেই ঐ পাঁচ শিশু এইচআইভি আক্রান্ত হয়ে পরে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর রাজ্য জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। জানা যায়, সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকেই সংক্রমিত রক্ত শিশুদের শরীরে প্রবেশ করেছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি রক্তের ইউনিট এইচআইভি সহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের জন্য পরীক্ষা করার কথা থাকলেও, সেই প্রক্রিয়ায় মারাত্মক গাফিলতি হয়েছে বলে অভিযোগ। কয়েক মাস আগেই শিশুদের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়লেও বিষয়টি দীর্ঘ সময় প্রশাসনের নজরে আসেনি, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এই ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে দু’জন চিকিৎসককে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্লাড ব্যাঙ্কের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মীর ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যারা ব্লাড ব্যাঙ্কের নথি, রক্ত সংগ্রহ ও পরীক্ষার পদ্ধতি এবং দাতা সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখছে। একই সঙ্গে আশঙ্কা করা হচ্ছে, আরও কোনও রোগী সংক্রমিত হয়েছেন কি না, তা যাচাইয়ের কাজও শুরু হয়েছে।
আক্রান্ত শিশুদের পরিবারগুলির মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের তরফে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হলেও, এই ঘটনায় সরকারি হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি হাসপাতালের গাফিলতির ফল নয়, বরং দেশের বিভিন্ন জায়গায় ব্লাড ব্যাঙ্ক ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতার দিকেই ইঙ্গিত করছে। বিশেষ করে থ্যালাসেমিয়ার মতো রোগে আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন। তাই ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে নিয়মিত অডিট, আধুনিক পরীক্ষার ব্যবস্থা এবং কঠোর নজরদারি একান্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
