ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়ারা জেলায় ফের নেমে এল শোকের ছায়া। মাত্র পাঁচ মাসের এক শিশু কন্যার মৃত্যু ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। অভিযোগ, শিশুটিকে একাধিক ওষুধ দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে একটি হারবাল কাশির সিরাপও ছিল। ওই ওষুধ খাওয়ানোর পরই শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। পরে কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হলে ঐ শিশুকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। মৃত শিশুটির নাম রুহি মিনোতে।
পরিবার সূত্রে খবর, কয়েকদিন ধরে জ্বর ও কাশিতে ভুগছিল রুহি। প্রথমে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে, কিন্তু সেখানে ডাক্তার না থাকায় চিকিৎসা সম্ভব হয়নি। এরপর তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় বিছুয়া শহরের কুর্থে মেডিক্যাল নামে এক বেসরকারি ওষুধের দোকানে। দোকানের মালিক নিজেই কিছু ওষুধ ও একটি হারবাল কাশির সিরাপ দেন শিশুটির পরিবারের হাতে। ওষুধ সেবনের কিছুক্ষণের মধ্যেই রুহির শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকে। উদ্বিগ্ন পরিবার তাকে দ্রুত স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায়, কিন্তু সেখানে চিকিৎসকেরা জানান, ততক্ষণে শিশুটি প্রাণ হারিয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে প্রশাসন দ্রুত তদন্ত শুরু করে।
চিকিৎসা ও ওষুধ বিক্রির এই অবহেলার ঘটনায় কুর্থে মেডিক্যাল দোকানটি ইতিমধ্যেই সিল করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। দোকান থেকে উদ্ধার হওয়া সমস্ত ওষুধের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি দোকান মালিকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। জেলা স্বাস্থ্য দফতর ও রাজ্যের ফুড অ্যান্ড ড্রাগস ডিপার্টমেন্ট যৌথভাবে ঘটনার বিস্তারিত তদন্তে নেমেছে।
উল্লেখ্য, কয়েক মাস আগেই একই জেলায় প্রায় ২০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছিল ‘কোল্ডরিফ’ নামে একটি কাশির সিরাপ খেয়ে। পরে তদন্তে জানা যায়, ওই সিরাপটি ছিল ভুয়ো এবং নিম্নমানের। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের এক শিশুর মৃত্যুতে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে স্থানীয়রা। প্রশ্ন উঠছে, এত ঘটনার পরও কেন এখনো শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না ভুয়ো ওষুধের বাজার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘হারবাল’ শব্দটি শুনে অনেকেই ওষুধকে নিরাপদ মনে করেন, কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই এই ধরনের ওষুধ মানহীন বা মিশ্রিত হয়, যা রোগীদের বিশেষত শিশুদের ক্ষেত্রে মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। তাই শিশুদের ওষুধ সেবনে অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন এবং শুধুমাত্র নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শেই ওষুধ ব্যবহার করা উচিত।
প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ওষুধ কোম্পানি ও দোকান মালিকের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি জেলার সমস্ত ফার্মেসিতে ওষুধ বিক্রির লাইসেন্স, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ, এবং মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
