ওঙ্কার ডেস্ক: কলেজের জলের ট্যাঙ্কে মিলল পচাগলা বাঁদরের দেহ। আর সেই জল ব্যবহার করে অসুস্থ হয়ে পড়লেন অসম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ৫৪ জন পড়ুয়া। ঘটনাটি ঘটেছে গুয়াহাটির অসম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সাত নম্বর হস্টেলে। পেটের যন্ত্রণা, বমি এবং জ্বরের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্তরা সরকারি আয়ুর্বেদিক কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
রবিবার জলের ট্যাঙ্ক পরীক্ষা করতে গিয়ে মৃত বাঁদরের দেহ দেখতে পান পড়ুয়ারা। বেশ কিছুদিন ধরেই পানীয় জল থেকে দুর্গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল বলে অভিযোগ। সেই জল পান করা, স্নান করা এবং বাসন ধোয়ার কাজে ব্যবহার করা হত। বারবার অভিযোগ জানিয়েও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় নিজেরাই ট্যাঙ্ক পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন পড়ুয়ারা। ছাত্রদের প্রতিনিধি ম্রিথাঞ্জয়নের দাবি, দুর্গাপুজোর ছুটি কাটিয়ে হস্টেলে ফেরার পর থেকেই জলের সমস্যা নজরে আসে। পানীয় জলে অস্বাভাবিক দুর্গন্ধ পেয়ে হস্টেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। প্রথম দিকে কয়েকজন পড়ুয়ার পেটের সমস্যা দেখা দিলে খাবার থেকেই অসুস্থতা ছড়াচ্ছে বলে সন্দেহ করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় কয়েকজন পড়ুয়া মিলে জলের ট্যাঙ্ক পরীক্ষা করেন। তখনই একটি ট্যাঙ্কের ভিতরে পচাগলা বাঁদরের দেহ দেখতে পাওয়া যায়।
ম্রিথাঞ্জয়নের আরও অভিযোগ, দুর্গন্ধযুক্ত জলের বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে আগেই জানানো হয়েছিল। কিন্তু তারপরেও সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ করা হয়নি। তাঁর কয়েকজন বন্ধুর অবস্থা গুরুতর বলেও দাবি করেছেন তিনি। দুই থেকে তিনজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে হয়েছে। এক পড়ুয়াকে স্যালাইন দিতে হয়েছে। এমনকি তাঁর হাঁটাচলাতেও সমস্যা হচ্ছিল বলে জানিয়েছেন ওই ছাত্রনেতা। এই ঘটনায় পড়ুয়াদের পড়াশোনাতেও প্রভাব পড়েছে। তাঁদের আসন্ন ক্যাট পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে অসুস্থতার খবর পাওয়ার পর কলেজ কর্তৃপক্ষ জলের ট্যাঙ্কগুলি পরিষ্কার করিয়েছে। পাশাপাশি সাত নম্বর হস্টেলের মেস অন্য একটি হস্টেলে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষ অমৃতা গাঙ্গুলি জানিয়েছেন, প্রথমে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন পড়ুয়ার মধ্যে অসুস্থতার লক্ষণ দেখা গিয়েছিল। তাঁদের কয়েকজনের উপসর্গ আমাশয়ের মতো ছিল। অধ্যক্ষের বক্তব্য, আক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাঁদের শারীরিক পরীক্ষাও করানো হয়। তবে কাউকে হাসপাতালে ভর্তি করা কিংবা জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার প্রয়োজন হয়নি।