ওঙ্কার ডেস্ক: আন্তর্জাতিক মাদক পাচারচক্রের অন্যতম কিংপিন সেলিম ইসমাইল ডোলাকে গ্রেফতার করল গুজরাটের অ্যান্টি-টেররিস্ট স্কোয়াড (এটিএস)। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ভদোদরা জেলার সিন্ধরোট গ্রামে একটি গোপন মাদক তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছিল পুলিশ। সেই মামলার তদন্তের সূত্র ধরেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
রিপোর্ট অনুসারে, সেই সময় কারখানায় তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৮৮ কেজি মাদক উদ্ধার করেন তদন্তকারীরা। উদ্ধার হওয়া মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ছিল ৪৩৮ কোটি টাকা। ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল ১০ জনকে। তদন্তে উঠে আসে, এই চক্রের অন্যতম অভিযুক্ত সেলিম ডোলা দেশের বাইরে থেকে বেআইনি মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছিল। বিদেশে আত্মগোপন করে থাকায় তাকে খুঁজে বের করতে ইন্টারপোলের সাহায্য নেয় গুজরাট পুলিশ। তার বিরুদ্ধে জারি করা হয় রেড কর্নার নোটিস। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার পর অবশেষে ২০২৬ সালের ৩১ অক্টোবর তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। সিন্ধরোটের মাদক কারখানা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
তদন্তকারী সংস্থাগুলির নথি অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরেই মাদক পাচার ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত সেলিম ডোলা। ১৯৯০-এর দশকে আন্ডারওয়ার্ল্ডের পরিচিত মুখ ইকবাল মির্চির হয়ে মাদক পরিবহণের কাজ করত বলে অভিযোগ। পরবর্তী সময়ে নিজের আন্তর্জাতিক পাচারচক্র গড়ে তোলে সে। তদন্তে জানা গিয়েছে, বৈধ রপ্তানি পণ্যের কন্টেনারের আড়ালে বিদেশে মাদক পাঠানো হত। দুবাই-সহ বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করেও ভারতীয় পাসপোর্ট ব্যবহার করে এই নেটওয়ার্ক পরিচালনা করত ডোলা। দেশের একাধিক শহরে তার বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে। মাদক পাচারের অভিযোগে মুম্বই পুলিশ, নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি), ডিরেক্টরেট অফ রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স (ডিআরআই) এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়েছে। চরস, ফেন্টানিল এবং মেফেড্রোনের মতো মাদক পাচারের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সংগঠিত অপরাধ দমন এবং আর্থিক তছরুপ সংক্রান্ত কঠোর আইনের আওতাতেও তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।