ওঙ্কার ডেস্ক: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফ জওয়ানদের উপর হামলার ঘটনায় ত্রিপুরায় গ্রেফতার করা হল ৯ জনকে। ধৃতদের মধ্যে তিন জন মহিলা। অভিযোগ, জওয়ানদের মারধরের পাশাপাশি তাঁদের আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। এই ঘটনায় এক কোম্পানি কমান্ডার-সহ বিএসএফের তিন কর্মী আহত হয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাটি ঘটেছে ত্রিপুরার সিপাহিজলা জেলার সীমান্তবর্তী আশাবাড়ি গ্রামে। এক স্থানীয় বাসিন্দাকে বিএসএফ জওয়ানরা মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই বাসিন্দা পাচারকাজে যুক্ত থাকতে পারেন বলে সন্দেহ করা হয়েছিল। এই ঘটনার প্রতিবাদে গ্রামবাসীরা রাস্তায় অবরোধ শুরু করেন। সেই সময় তিন বিএসএফ কর্মীকে নিয়ে একটি গাড়ি অবরোধের সামনে পৌঁছয়। অভিযোগ, তখনই উত্তেজিত জনতা গাড়ির ভিতরে থাকা জওয়ানদের উপর চড়াও হয়। লাঠি ও বাঁশ দিয়ে তাঁদের মারধর করা হয়। এমনকি আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ। এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা। সমাজমাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, আশাবাড়িতে বিএসএফ জওয়ানদের উপর এই ধরনের হামলা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের উপর আক্রমণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন মেনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি জওয়ানদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার উপরেও জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিকে, ঘটনার তদন্তে বিএসএফ এবং স্থানীয় বাসিন্দা—উভয় পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে কালামচৌড়া থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। সোনামুড়া মহকুমার পুলিশ আধিকারিক অভিজিৎ দাস জানিয়েছেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার-সহ পদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। থানার পুলিশকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখা হয়েছে। অভিজিৎ দাসের কথায়, ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ করা হবে। আহত বিএসএফ কর্মীদের হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে।