ওঙ্কার ডেস্ক: অসমের ডিব্রুগড় জেলায় অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেডের কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল দুই। ঘটনায় আহত আরও পাঁচ জনের শারীরিক অবস্থা এখনও সংকটজনক বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে চার জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর।
রিপোর্ট অনুসারে, অগ্নিকাণ্ডের ফলে গুরুতর দগ্ধ হন তাপস জ্যোতি গগৈ।চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ডিব্রুগড়ের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। এর আগে অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের জেরে মৃত্যু হয়েছিল রাজু দত্তের। ফলে এই ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল দুই। আহত বাকি পাঁচ জনও ওই একই নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন। সূত্রের খবর, তাঁদের মধ্যে চার জনের শারীরিক পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁদের ভেন্টিলেটরে রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেড। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, কী কারণে আগুন লাগল এবং তার নেপথ্যে কী কী পরিস্থিতি কাজ করেছে, তা খতিয়ে দেখবে কমিটি। পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের সুপারিশও করবে তারা। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটির বিবৃতি অনুযায়ী, শুক্রবার টেঙ্গাখাট এলাকার ইন্টারমিডিয়েট ট্যাঙ্ক ফার্মের (আইটিএফ) ইন্ডাইরেক্ট বাথ হিটারে (আইডিবিএইচ) আগুন লাগে। ওই অংশটি রক্ষণাবেক্ষণের কাজের জন্য নির্দিষ্ট ছিল। গত ৪ নভেম্বর থেকেই সেটি মূল পরিকাঠামো থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছিল।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, শুক্রবার সকাল ৯টা ৫ মিনিট নাগাদ রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলাকালীন বিস্ফোরণ ঘটে। এরপরই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ইন্টারমিডিয়েট ট্যাঙ্ক ফার্মে সাধারণত পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য সাময়িকভাবে ট্যাঙ্কে মজুত রাখা হয়। পরে সেগুলি প্রক্রিয়াকরণ বা পরিবহণের জন্য পাঠানো হয়। অয়েল ইন্ডিয়ার প্রাথমিক অনুমান, রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলার সময় কোনও অনিচ্ছাকৃত দুর্ঘটনা থেকে বিস্ফোরণ ঘটে। তার জেরেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। সংস্থার দাবি, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দমকলকর্মীদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তাঁদের তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।