কলকাতা: ছয় ছাত্রকে এক বছরের জন্য বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কের মুখে সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট। অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ ছাত্রদের পাশে দাঁড়ানোর একদিন পরেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল কর্তৃপক্ষ।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের অধীনস্থ এই প্রতিষ্ঠানের তরফে জানানো হয়েছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের জন্য নয়, নির্দিষ্ট অসদাচরণের জন্যই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভাঙচুর, দেওয়ালে দাগ লাগানো এবং শারীরিক হামলার মতো ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই শৃঙ্খলাভঙ্গের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সংস্থার বক্তব্য, প্রতিবাদের অধিকারকে শাস্তির সঙ্গে জুড়ে ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। শান্তিপূর্ণ ভিন্নমতের অধিকারকে সম্মান জানানো হয়, তবে প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে।
উল্লেখ্য, বেশ কিছুদিন ধরেই প্রশাসনের সঙ্গে ছাত্রদের একাংশের সংঘাত চলছে। ছাত্রদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে হামলার পিছনে আরএসএস-ঘনিষ্ঠ সংগঠনের হাত রয়েছে। এই অচলাবস্থার জেরে দেশের অন্যতম প্রধান এই ফিল্ম ইনস্টিটিউটে ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস বন্ধ। ছাত্ররা উপাচার্য সন্তোষ আজমেরার পদত্যাগ দাবি করছেন।
এর মধ্যেই সোশাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বার্তায় নাসিরুদ্দিন শাহ অভিযোগ করেন, বাংলায় বিজেপির জয়ের পর যারা তাদের মতাদর্শ মানে না, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়া হচ্ছে। তাঁর কথায়, বিজেপি তরুণ নির্মাতাদের হয় মগজ ধোলাই করতে চাইছে, না হলে ভয় দেখাতে চাইছে, কিন্তু তা সফল হবে না। ভবিষ্যতে এই তরুণরাই দেশের সত্য তুলে ধরবে।
পাল্টা বিজেপি সাংসদ ও মুখপাত্র রাহুল সিনহা শাহের মন্তব্যের পূর্ণ তদন্ত দাবি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, এর পিছনে বিদেশি শক্তি এবং কংগ্রেস, তৃণমূল ও সিপিএম-সহ বিরোধী দলগুলির ভারতীয় গণতন্ত্রকে দুর্বল করার আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র থাকতে পারে।