ওঙ্কার ডেস্ক: নেপালের রাজনীতিতে হঠাৎ করেই বড়সড় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে। শনিবার ভোরে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করে। একই ঘটনায় প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এই গ্রেপ্তারের নেপথ্যে রয়েছে গত বছরের বহুল আলোচিত তরুণ প্রজন্মের বিক্ষোভ যা ‘জেন-জি’ আন্দোলন নামে পরিচিতি পায়। দুর্নীতি, ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং সামাজিক মাধ্যম নিয়ন্ত্রণের প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তরুণরা রাস্তায় নেমেছিল। আন্দোলন দ্রুতই তীব্র আকার ধারণ করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। অভিযোগ, সেই সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে বহু নিরীহ বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়। সরকারি হিসেব অনুযায়ী কয়েক ডজন মানুষের প্রাণহানি ঘটে, যদিও বেসরকারি সূত্রে মৃতের সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি করা হয়। এই ঘটনার পর থেকেই অলির সরকার তীব্র চাপে পড়ে এবং দেশজুড়ে ক্ষোভের সঞ্চার হয়।
পরবর্তীতে ঘটনাটির তদন্তে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিশন গঠন করা হয়। সেই কমিশনের রিপোর্টে প্রশাসনিক গাফিলতি এবং অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের জন্য শীর্ষস্তরের নেতাদের দায়ী করা হয়। রিপোর্টে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই বর্তমান প্রশাসন এই গ্রেপ্তারি অভিযান চালিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, নতুন প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ২৪ ঘন্টার মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারের সময় তিনি আন্দোলনে নিহতদের পরিবারের জন্য ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ফলে এই গ্রেপ্তারকে সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। অন্যদিকে অলির আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এটি সম্পূর্ণ বেআইনি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ এবং আদালতে এর বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানানো হবে।