ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টের বিচারপতি মিলিন্দ রমেশ ফাড়কের বেঞ্চে বৈবাহিক ধর্ষণের রায়ে চরম বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে সংঘটিত তথাকথিত ‘অস্বাভাবিক যৌন সম্পর্ক’-এর অভিযোগে স্বামীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা যাবে না। এই রায় সামনে আসতেই দাম্পত্য সম্পর্কের ভিতরে নারীর সম্মতি, অধিকার এবং সুরক্ষার প্রশ্ন আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
ঘটনাটি মধ্যপ্রদেশের ভিন্দ জেলার এক দম্পতিকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ ছিল, স্বামী জোরপূর্বক এমন যৌন আচরণে লিপ্ত হয়েছেন যা স্ত্রী ‘অস্বাভাবিক’ বলে দাবি করেন এবং সেই ভিত্তিতে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারায় মামলা দায়ের করেন। কিন্তু বেঞ্চ এই অভিযোগ খারিজ করে দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বৈধ দাম্পত্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই ধরনের যৌন আচরণকে আলাদা করে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিধান বর্তমানে আইনে নেই।
রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতে এখনও ‘বৈবাহিক ধর্ষণ’ বা ম্যারিটাল রেপকে স্বীকৃত অপরাধ হিসেবে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। ফলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘সম্মতি’-র প্রশ্নটি আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে সীমিতভাবে বিবেচিত হয়। এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিবাহিত সম্পর্কের মধ্যে সংঘটিত যৌন আচরণকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে আইনের কিছু নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
আদালত এ-ও স্পষ্ট করেছে যে, এই ধরনের আচরণ সম্পূর্ণভাবে আইনের বাইরে নয়। যদি অভিযোগে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের প্রমাণ থাকে, তাহলে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮এ ধারায় ‘নির্যাতন’ হিসেবে তা বিবেচিত হতে পারে এবং সেই অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব। অর্থাৎ, স্ত্রীকে মারধর করা আদালতের চোখে গুরতর অপরাধ হলেও জোর পুর্বক যৌন মিলনে লিপ্ত হওয়া আদালতের কাছে অপরাধ হিসাবে গন্য হবে না।
এই রায়ের পর থেকেই বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। নারীর অধিকার রক্ষায় কাজ করা সংগঠনগুলি প্রশ্ন তুলছে দাম্পত্য সম্পর্কের মধ্যে নারীর সম্মতি ও শারীরিক স্বাধীনতা কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে। অন্যদিকে, কিছু আইনি বিশেষজ্ঞের মতে, বর্তমান আইন যা বলছে, আদালত সেই অনুযায়ীই রায় দিয়েছে, ফলে এই বিতর্কের মূলে রয়েছে আইনের প্রয়োজনীয় সংস্কার।