শান্তনু পান, ঘাটাল : সরকার বদলায়। কিন্তু জলযন্ত্রণা থেকে রেহাই পায়না ঘাটাল। প্রতিবছর বন্যায় ভাসে পশ্চিম মেদিনীপুরের এই এলাকা। এবার সেই জলযন্ত্রণারই এক করুণ ছবি সামনে এল। লাগাতার বৃষ্টি ও বন্যায় রাস্তা-ঘাট জলের তলায়। তাই বাধ্য হয়ে জলমগ্ন ঘাটালে ডিঙি নৌকায় চাপিয়ে মৃতদেহ শ্মশানে নিয়ে গেল পরিবার।
তবে শুধু জলযন্ত্রণা না। স্থানীয়দের অভিযোগ, তৃণমূল জমানা থেকে ইলেকট্রিক চুল্লির কাজ শুরু হলেও আজও তা সম্পূর্ণ হয়নি। ফলে মৃতদেহ সৎকারেও বেগ পেতে হয় সেখানকার মানুষদের। বিশেষ করে এই বর্ষার মরশুমে বিপত্তি চরমে ওঠে। একইসঙ্গে বৃদ্ধি পায় সাপের উপদ্রব। এই অবস্থায় কবে এই যন্ত্রণা থেকে রেহাই মিলবে, তার আশায় দিন গুনছে কয়েক-শো পরিবার। যদিও রাজ্যের বর্তমান সরকারের উপর তাঁদের ভরসা আছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা যায়, ২০২০ সালে রাজ্য পুরো ও নগর উন্নয়ন দপ্তর ১ কোটি ৬৯ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছিল ইলেকট্রিক চুল্লি নির্মাণের জন্য। ২০২১ সালে ঘাটালের শ্যামপুরে ইলেকট্রিক চুল্লি নির্মাণের কাজ শুরু হয়। পরে আরও ১ কোটি ১৪ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়। কিন্তু তারপরেও অসম্পূর্ণ রয়ে যায় ইলেকট্রিক চুল্লি নির্মাণের কাজ। ইলেকট্রিক চুল্লি নির্মাণের দায়িত্বে থাকা পূর্ত দপ্তর থেকে ৯০ লক্ষ টাকা এস্টিমেট করে পাঠানো হয় রাজ্য ও নগর উন্নয়ন দপ্তরে ২০২৩ সালে। সেই টাকা অনুমোদন হয়ে আসিনি বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। ফলে অর্ধসমাপ্ত হয়ে পড়ে রয়েছে চুল্লি নির্মাণের কাজ।

প্রতিবছর ঘাটাল মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যাকবলিত হয়ে পড়ে। রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে ঘরবাড়ি সমস্ত কিছু বন্যার জলে ডুবে যায়। এমনকি জলের তলায় চলে যায় মৃতদেহ সৎকার করার শ্মশানও। ঘাটাল ব্লকের ১০টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা-সহ ঘাটাল পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ড একমাস পর্যন্ত থাকে জলের তলায়। ফলে মৃতদেহ সৎকার নিয়ে চরম সমস্যায় পড়তে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। নৌকো, ডিঙি বা কলার ভেলাই চড়িয়ে মৃতদেহ সৎকারের জন্য নিয়ে আসতে হয়ে উঁচু জায়গায়। চরম সমস্যায় পড়তে হয় মৃতদেহ দাহ করতে আসা মানুষকে। এমতাবস্থায় স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত চুল্লি নির্মাণের কাজ শেষ করুক সরকার। পাশাপাশি নিত্য বন্যা থেকেও মুক্তি চাইছে তারা।