ওঙ্কার ডেস্ক: যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চলন্ত ট্রেনে ওঠানামা বা দরজায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে দাঁড়ানোর বিরুদ্ধে এবার কড়া পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে ভারতীয় রেল। প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রী তাড়াহুড়ো করে ট্রেন পুরোপুরি থামার আগেই ওঠার বা নামার চেষ্টা করেন, যার জেরে বাড়ছে দুর্ঘটনার সংখ্যা। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রেলরক্ষী বাহিনী আরও কঠোর নজরদারি চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, চলন্ত ট্রেনে ওঠা-নামা কিংবা ফুটবোর্ডে বিপজ্জনকভাবে যাতায়াত রেল আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এতদিন মূলত যাত্রীদের সতর্ক করা হলেও এবার থেকে আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে সরাসরি জরিমানা করা হবে। প্রয়োজনে ঘটনাস্থলেই স্পট ফাইন করা হতে পারে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে যাত্রীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং প্রাণহানির ঘটনা কমানোই রেলের মূল লক্ষ্য।
বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতের তিরুবনন্তপুরম ডিভিশনে চলন্ত ট্রেন সংক্রান্ত দুর্ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় এই উদ্যোগকে আরও জোরদার করা হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম কয়েক মাসেই সেখানে বহু দুর্ঘটনার ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে প্রাণহানি ও গুরুতর আহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। রেল কর্তৃপক্ষের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যাত্রীদের অসাবধানতা, তাড়াহুড়ো এবং নিরাপত্তা বিধি অমান্য করার ফলেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। আরপিএফ জানিয়েছে, অনেক যাত্রী ট্রেনের ভিতরে পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও দরজার সামনে দাঁড়িয়ে যাতায়াত করেন, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। কেউ কেউ প্ল্যাটফর্মে পৌঁছানোর আগেই নামার চেষ্টা করেন, আবার অনেকে ট্রেন ছাড়ার পরেও দৌড়ে উঠে পড়তে চান। এই ধরনের প্রবণতা রুখতেই কড়া আইন প্রয়োগের পথে হাঁটছে রেল।
যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে আদালতও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। রেলকে স্টেশন ও ট্রেনের ভিতরে আরও বেশি সতর্কীকরণ ঘোষণা, সচেতনতা প্রচার এবং নিরাপত্তা নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্টেশনে আরপিএফ কর্মীদের মোতায়েন করে নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে যাতে ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ দ্রুত চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
রেলের দাবি, সামান্য সময় বাঁচাতে গিয়ে নিজের জীবন বিপন্ন করা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই নিরাপদ ভ্রমণের স্বার্থে কঠোর অবস্থান নেওয়া ছাড়া আর কোনও পথ নেই। যাত্রীদেরও বারবার সতর্ক করা হচ্ছে ট্রেন সম্পূর্ণ থামার পরেই ওঠানামা করতে হবে এবং নিরাপত্তা বিধি মেনে চলাই হতে পারে প্রাণরক্ষার একমাত্র উপায়।