ওঙ্কার ডেস্ক: ঘন কুয়াশার কারণে দিল্লি-আগ্রা যমুনা এক্সপ্রেসওয়েতে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৪ জনের, আহত প্রায় ২৫ জন, যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মঙ্গলবার ভোরে উত্তরপ্রদেশের মথুরা জেলার কাছে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা এতটাই কম ছিল যে সামনের গাড়ি চোখে পড়ছিল না। তার জেরেই একের পর এক গাড়ি, বাস ও অন্যান্য যানবাহনের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
সুত্রের খবর অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর একাধিক গাড়িতে আগুন ধরে যায়। সংঘর্ষের তীব্রতায় কয়েকটি বাস ও গাড়ি কার্যত পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আগুন ও ধোঁয়ায় চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বহু যাত্রী ভেতরে আটকে পড়েন বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। খবর পেয়ে দমকল বাহিনী, পুলিশ ও অ্যাম্বুল্যান্স দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলে উদ্ধারকাজ। আগুন নেভানোর পাশাপাশি আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। মৃতদের পরিচয় এখনও সম্পূর্ণভাবে জানা যায়নি। দুর্ঘটনার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে যমুনা এক্সপ্রেসওয়েতে যান চলাচল ব্যাহত হয়। বহু কিলোমিটার জুড়ে যানজট তৈরি হয়, আটকে পড়েন শত শত যাত্রী।
সিনিয়র পুলিশ সুপার (এসএসপি) শ্লোক কুমার দুর্ঘটনার বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেছেন এবং বলেছেন, “অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শেষ হচ্ছে, এবং মহাসড়কটি পরিষ্কার করার এবং আটকে পড়া যাত্রীদের পরিবহনের চেষ্টা চলছে”। তিনি দুর্ঘটনার কারণ হিসাবে বলেন, “উদ্ধারকার্যের সময়ও ঘন কুয়াশা রয়েছে রাস্তা জুড়ে। এই দুর্বল দৃশ্যমানতার কারণেই প্রায় সাতটি বাস এবং তিনটি ছোট গাড়ি একে অপরের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। দুর্ঘটনার ফলে গাড়িগুলিতে আগুনও লেগে যায়”।
প্রশাসনের জানায় ঘন কুয়াশার কারণেই এই বহুগাড়ির সংঘর্ষ ঘটে। শীতের মরশুমে উত্তর ভারতের এক্সপ্রেসওয়েগুলিতে কুয়াশা বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। দুর্ঘটনার পর পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কীভাবে এতগুলো গাড়ি একসঙ্গে দুর্ঘটনার কবলে পড়ল এবং আগুন লাগার প্রকৃত কারণ কী, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে সাধারণ মানুষকে কুয়াশার সময় গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকার আবেদন জানানো হয়েছে।
